Jnanenswari Express: ভয়াবহ দুর্ঘটনার ১৩ বছর পার! এখনও ১৭ যাত্রীকে খুঁজে বের করার লড়াই জারি
জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস (Jnanenswari Express) দুর্ঘটনার পর কেটে গিয়েছে তেরো বছর। সেই দুর্ঘটনায় ১৭ যাত্রীর দেহ এখনও শনাক্ত করা যায়নি। ২০১০ সালের জুনে সেই দুর্ঘটনার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হলেও, মামলার তেমন কোনও অগ্রগতি হয়নি। সেই সময় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে ট্রেন দুর্ঘটনায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছিল।
কমপক্ষে ১৪৮ জন যাত্রীর মৃত্যুর সেই দুর্ঘটনায় (Jnanenswari Express) নিখোঁজ রাজেশ বাত্রার মেয়ে। ছেলে-মেয়েকে নিয়ে স্ত্রী সেই ট্রেনে সওয়ার হয়েছিলেন। বাত্রার মেয়ে-সহ ১৭ যাত্রীর দেহ শনাক্ত করা যায়নি। এই মামলার বিচার চেয়ে রাজেশ মাত্রা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠিও পাঠিয়েছেন।

রাজেশ মাত্রা হাওড়ার লিলুয়ার বাসিন্দা। সেই কারণে যখনই তিনি অগ্রসেন বালিকা শিক্ষা সদন কিংবা এমসি কেজরিওয়াল বিদ্যাপীঠ পেরিয়ে যান, তা তাঁকে নিজের মেয়ে ও ছেলের কথা মনে করিয়ে দেয়। সেই সময় তাঁর মেয়ে ছিল দ্বাদশ শ্রেণির আর ছেলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকার সময় সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় রাজেশ বাত্রা স্ত্রী ইন্দু এবং ছেলে ও মেয়েকে হারিয়েছিলেন। ছেলে ও স্ত্রীর দেহ খুঁজে পেলেও, মেয়ের দেহ খুঁজে পাননি। তিনি এখনও হাল না ছেড়ে মেয়েকে খুঁজে চলেছেন।
২০১০ সালের ২৮ মে রাতে হওয়া সেই দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রেনের (Jnanenswari Express) এস থ্রি কোচের যাত্রী ছিল বাত্রা পরিবার। গ্রীষ্মের ছুটি পড়ে যাওয়ায় ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে স্ত্রী মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিল। সেই সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

রাজেশ বাত্রা জানিয়েছেন, রাতেই তাঁদের ট্রেনে (Jnanenswari Express) তুলে দিয়েছিলেন। আর পরের দিন ভোরে পশ্চিম মেদিনীপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পান। গুরুতর আহত ছেলের খোঁজ পেয়েছিলেন, সেই সময়েই। তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে এনে ভর্তিও করেন। কিন্তু আঘাতজনিত কারণেই তিনদিন পরে মৃত্যু হয় ছেলের।
সেই দুর্ঘটনার পরেও স্ত্রী কিংবা মেয়ের সন্ধান তিনি পাননি। প্রায় সাত মাস পরে ২৪ ডিসেম্বর ভাইয়ের সঙ্গে ডিএনএ মিলে যাওয়া স্ত্রীর দেহ শনাক্ত হয়। লিলুয়া থানার ফোন পেয়ে কলকাতার মর্গ থেকে দেহ সংগ্রহ করে ২৬ ডিসেম্বর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন।

সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে রাজেশ বাত্রা বলেছেন, সেই ঘটনার পরে তিনি আবার বিয়ে করেছেন। তাঁর একটি ছেলেও রয়েছে। জীবন চললেও, মেয়েকে খুঁজে পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। রাজেশ জানিয়েছে তিনি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাক্ষাত চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। যাতে তাঁর সামনে মামলাটি তুলে ধরা যায়।
রাজেশ বাত্রা জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস (Jnanenswari Express) দুর্ঘটনায় ন্যায় বিচার চান। তাঁর প্রশ্ন কীভাবে এক যাত্রী নিখোঁজ হতে পারে। এব্যাপারে সরকারি তরফে গাফিলতির অভিযোগ তিনি করেছেন। একই অভিযোগ অন্যদের পরিবারেরও।












Click it and Unblock the Notifications