একেই বলে প্রকৃত বন্ধুত্ব! ১৩০০ কিমি পেরিয়ে কোভিড আক্রান্ত বন্ধুকে অক্সিজেন পৌঁছে দিলেন যুবক
কোভিড আক্রান্ত বন্ধুকে অক্সিজেন পৌঁছে দিলেন যুবক
কঠিন সময়ে একে–অপরের পাশে থাকার নামই বন্ধুত্ব। খুব ছোট শব্দ হলেও এর অর্থ কিন্তু খুবই গভীর। এই বন্ধুত্ব জয়–বীরুর বন্ধুত্বকেও ম্লান করে দেবে। করোনার মারাত্মক পরিস্থিতির মধ্যেও সেই বন্ধুত্বের খাতিরেই ঝাড়খণ্ডের এক ব্যক্তি তাঁর উত্তরপ্রদেশে থাকা কোভিড পজিটিভ বন্ধুর জন্য ১৩০০ কিমি পাড়ি দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করে।

বোকারোর উদ্দেশ্যে রওনা
গত ২৪ এপ্রিল রাঁচির দেবেন্দ্র কুমার শর্মার কাছে আতঙ্কিত হয়ে ফোন করেন তাঁর গাজিয়াবাদে থাকা বন্ধু সঞ্জয় সাক্সেনা। তিনি দেবেন্দ্রকে জানান যে তাঁগের বন্ধু রজন কোভিডে আক্রান্ত এবং জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেনের প্রয়োজন। রজনের অক্সিজেনের মজুত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফুরিয়ে যাবে এবং দিল্লি-এনসিআরে অক্সিজেনের ঘাটতির জন্য তাঁর বন্ধু ও পরিবার তাঁর জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করতে পারেনি। এই ফোন কল পাওয়ার পরই দেবেন্দ্র ওই রাতেই বোকারোর উদ্দেশ্যে রওনা দেন তাঁর বাইকে করে। রজন এই বোকারোর বাসিন্দা। দেবেন্দ্র ১৫০ কিমির ওপর সফর করে বোকারোতে পৌঁছান।

অবশেষে অক্সিজেন মিলল
অক্সিজেন সিলিন্ডারের খোঁজ সেখানে না পেয়ে অগত্যা ঝাড়খণ্ড গ্যাস প্ল্যান্টের মালিকের কাছে গিয়ে হাজির হন দেবেন্দ্র। যে করে হোক অক্সিজেন সিলিন্ডার লাগবে। গ্যাস প্ল্যান্টের মালিক রাকেশ অক্সিজেন তো দেন, উপরন্তু দেবেন্দ্রর থেকে কোনও টাকাও নেন না, বরং জানান যে আগে তিনি তাঁর বন্ধুর কাছে পৌঁছান।

গাজিয়াবাদ সফর
এরপর শুরু হল গাজিয়াবাদ যাত্রা। একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে তাতে অক্সিজেন সিলিন্ডার তুলে দীর্ঘ ১ হাজার ৩০০ কিমি পথ পেরলেন দেবেন্দ্র। ২৫ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে টানা ২৪ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ২৬ এপ্রিল সেখানে পৌঁছান তিনি। এমন প্রয়াস বিফলে যায়নি। অক্সিজেন পেয়ে রজন আপাতত বিপদ মুক্ত। এখনও চিকিৎসাধীন থাকলেও আশঙ্কার কিছু নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।

সত্যিকারের বন্ধুত্বের পরিচয়
বন্ধুর বিপদে এমনভাবে পাশে দাঁড়ানো বাস্তবে সত্যি বিরল। এতো সিনেমার পর্দাতেই দেখতে পাওয়া যায়। আসলে রজন ও দেবেন্দ্রর এক বন্ধু সঞ্জীব, গাজিয়াবাদে একই হাউসিংয়ে থাকতেন যিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১৯ এপ্রিল। বন্ধুর মৃত্যুশোক দূর থেকে শুনে কাতর হয়ে পড়েছিলেন দেবেন্দ্র। এরপরই রজন অসুস্থ হয়ে পড়লে আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি তিনি। আর তাঁর এমন অভিনব প্রয়াসে প্রাণ বাঁচল বন্ধুর।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications