Jharkhand Election: সাঁওতাল পরগনা ও ছোটনাগপুরে প্রেস্টিজ ফাইট, ঝাড়খণ্ড জয়ের চাবি দখলে ঝাঁপাচ্ছে জেএমএম-বিজেপি
Jharkhand Assembly Election 2024: ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট মিটেছে ১৩ নভেম্বর। ৪৩টি আসনে ভোট মিটেছে ইতিমধ্যেই। ২০ নভেম্বর ৩৮টি আসনে ভোট হতে চলেছে দ্বিতীয় দফায়। রাজনৈতিক দলগুলির নজর এই দ্বিতীয় দফাতেই। সাঁওতাল পরগনা (Santhal Pargana) ও ছোটনাগপুরে (Chhotanagpur) জেএমএম ও বিজেপির প্রেস্টিজ ফাইট বুধবার।
সাঁওতাল পরগনার আদিবাসী সংরক্ষিত আসন বারহাইট (Barhait) থেকে লড়ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (Hemant Soren)। এবারে জিতলে ওই আসন থেকে হ্যাটট্রিক করবেন হেমন্ত। ১৯৯০ থেকে এখানে আধিপত্য ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (JMM)। এই গড়ে এখনও পর্যন্ত থাবা বসাতে পারেনি বিজেপি (BJP)।

ধানওয়ার আসনে বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডির (Babulal Marandi) বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছে জেএমএম ও সিপিআই (এমএল)। অপরদিকে ছোটনাগপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন গান্ডে (Gandey)। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী কল্পনা সোরেনকে প্রার্থী করেছে জেএমএম। দলের তারকা প্রচারকের তালিকাতেও নাম রয়েছে কল্পনা সোরেনের (Kalpana Soren)।
ছ'টি জেলা নিয়ে গঠিত ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল পরগনা। জেলাগুলি হল দুমকা, সাহিবগঞ্জ, গোড্ডা, জামতারা, পাকুর ও দেওগড়। সাঁওতাল তো বটেই, এই এলাকার সিংহভাগ বাসিন্দাই মুসলিম, ওবিসি, তফসিলি সম্প্রদায়ের। তিনটি লোকসভা আসন ও ১৮টি বিধানসভা আসন রয়েছে সাঁওতাল পরগনায়। ১৮টির মধ্যে ৭টিই আবার আদিবাসী সংরক্ষিত, ১টি তফসিলি ও ১০টি অসংরক্ষিত আসন।
সাঁওতাল পরগনার মন জিতলেই মসনদের চাবিকাঠি হাতে আসবে, সে কথা ঘুণাক্ষরে জানেন শাসক ও বিরোধী দলের নেতৃত্বরা। আর তাই প্রথম থেকেই জেএমএমকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে (Infiltration) নিশানা করে সাঁওতাল পরগনার জনবিন্যাস বদলের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। মোদী থেকে শাহ, যোগী থেকে নাড্ডা, বারবার সভায় এসে অভিযোগ তুলেছেন অনুপ্রবেশকারীদের ইন্ধন দিচ্ছে হেমন্ত সোরেনের সরকার।
যদিও বিজেপির অভিযোগে আমল দিতে নারাজ জেএমএম। ক্ষমতা দখল করতে বিজেপি ভেদাভেদের রাজনীতি করছে বলে স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন হেমন্ত সোরেন ও তাঁর দল। রাজমহলে ১৬ নভেম্বরের সভা থেকে এনিয়ে বিজেপিকে চাঁচাছোলা আক্রমণও করেছেন হেমন্ত।
সাঁওতাল পরগনায় হাইভোল্টেজ মধুপুর আসনও। জেএমএম প্রধান শিবু সোরেনের পূত্রবধূ তথা হেমন্ত সোরেনের বৌদি সীতা সোরেন (Sita Soren) বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর সেখানে টিকিট পেয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হাফিজুল আনসারিকে প্রার্থী করেছে জেএমএম। অন্যদিকে, দুমকা আসনে জেএমএমের তরফে হেমন্তর ছোট ভাই তথা বিধায়ক বসন্ত সোরেনকে প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে লড়ছেন বিজেপির সাংসদ সুনীল সোরেন।
বুধবার নির্বাচন হবে উত্তর ছোটনাগপুরের ১৮টি বিধানসভা আসনেও। যার মধ্যে অন্যতম হাইভোল্টেজ আসন খনির শহর ধানবাদ। কয়লা বেল্টে জয়ের আশায় বুক বাঁধছে বিজেপি। এই এলাকায় ১৪টি আসনে বিজেপি ও ৪টিতে আজসু পার্টি প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীদের মধ্যে আটটি আসনে জেএমএম, ৬টিতে কংগ্রেস ও ৪টিতে সিপিআই (এমএল) প্রার্থী দিয়েছে।
উত্তর ছোটনাগপুরে জেএমএম ও বিজেপি উভয়ের পক্ষেই লড়াইটা বেশ কঠিন। ভোটের আগে সেখানে মাথাচাড়া দিয়েছে নতুন দল। কুড়মি সম্প্রদায়ের জয়রাম কুমার মাহাতর নতুন দল ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা এখন শাসক-বিরোধীদের জয়ের পথে কাঁটা।
স্থানীয় ইস্যুর উপর ভিত্তি করে প্রচার চালাচ্ছে এই দল। ছোটনাগপুরের জনসংখ্যার ১৫ শতাংশই রয়েছেন কুড়মি মাহাত। এলাকার কমপক্ষে ১২টি আসনে ব্যাপক ভোটও রয়েছে কুড়মি মাহাতদের। আর তাই এখানেও জয়ের পথ যে মসৃণ হবে না, তা বলাই বাহুল্য।












Click it and Unblock the Notifications