Jharkhand Assembly Election 2024: কুপোকাত হবে ইন্ডি! ঝাড়খণ্ডে গেরুয়া ঝড় সময়ের অপেক্ষা?
Jharkhand Assembly Election 2024: ঝাড়খণ্ডে ১৩ ও ২০ নভেম্বর দুই দফায় রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। ভোটগণনা হবে ২৩ নভেম্বর। জয়ের স্বাদ পেতে ঘুঁটি সাজাচ্ছে এনডিও ও ইন্ডি দু'পক্ষই। হেমন্ত সোরেনের জেলমুক্তির পর ক্ষমতায় ফেরা ও মহিলাদের মাসিক ভাতাকে হাতিয়ার করছে জেএমএম। অপরদিকে বেকারত্ব, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে ইস্যু করে ভোট ময়দানে লড়ছে বিজেপি।
২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের (Lok Sabha Election 2024) ফলাফলের ভিত্তিতে ৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়ে ছিল এনডিএ। যার মধ্যে ৪৭টিতেই এগিয়ে ছিল বিজেপি (BJP)। ২৯টি আসনের মধ্যে ১৫টিতে কংগ্রেস ও ১৪টিতে জেএমএম এগিয়ে ছিল। লোকসভার ফলাফলকে প্রামাণ্য হিসেবে ধরলে এবারের বিধানসভা ভোটে শিকে ছিঁড়তে পারে বিজেপিরই।

কেন্দ্রে মোদী (Modi Sarkar) সরকারের তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরা রাজ্যগুলির নির্বাচনেও যে প্রভাব ফেলতে চলেছে তা সন্দেহাতীত। ঝাড়খণ্ডেও তফসিলি জাতি (SC), অনগ্রসর শ্রেণী (OBC) ও অসংরক্ষিতদের (Upper Caste) সমর্থন পেয়ে এসেছে বিজেপি।
কিন্তু তফসিলি উপজাতি (ST) আসনগুলিতে বরাবরই দুর্বল বিজেপির ভীত। ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে ২৮টি এসটি সংরক্ষিত আসনের মাত্র ৫টিতে এগিয়ে ছিল বিজেপি। বাকি তেইশটিতেই আধিপত্য কায়েম করে জেএমএম ও কংগ্রেস জোট।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুলবুল মারান্ডির (Bulbul Marandi) দলে ফেরাও বিজেপিকে অক্সিজেন জোগাবে বলে আশাবাদী দল। ২০১৯ সালে বুলবুলের দল ঝাড়খণ্ড বিকাশ মোর্চা (প্রজাতান্ত্রিক) ৫.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজেপির ভোট কেটেছিল। দুটি আসনে বিজেপির নিশ্চিত জয় কার্যত ছিনিয়ে নিয়েছিল তারা। সেই বুলবুলের ২০২০-তে বিজেপিতে ফিরে আসা বিধানসভা ভোটে দলের পক্ষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
একা বুলবুলই নন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেনের (Champai Soren) বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। জেল থেকে মুক্তির পর হেমন্ত সোরেনকে মুখ্যমন্ত্রীর আসন ছেড়ে দিতে হয় চম্পাই সোরেনকে। এরপরই দলে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিজেপিতে যোগ দেন চম্পাই সোরেন। তার যোগদানে কোলহন এলাকার ভোট বিজেপির ঝুলিতে যেতে পারে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির।
জেএমএমের বিরুদ্ধে ক্ষেপে রয়েছে কোলহন এলাকার কুড়মি (Kurmi Adivasi) আদিবাসীরা। এসটি তালিকা থেকে তাদের বাদ দেওয়া নিয়ে ক্ষোভের আগুন চাপা রয়েছে কুড়মিদের মনে। সেই এলাকারই নেতা চম্পাই। কাজেই তাঁর বিজেপিতে যোগদানে কুড়মিদের ভোট বিজেপির ভোটবাক্সে যাবে বলেই আশায় বুক বাঁধছে দল।
ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল পরগনায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের (Bangladeshi Infiltration) কারণে জনবিন্যাসের বদলের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। শাসকদল জেএমএমের মদতেই অনুপ্রবেশকারীরা বৈধ পরিচয়পত্র পেয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। সাঁওতাল পরগনা থেকে ৫ শতাংশ ভোটও যদি ইন্ডি জোটের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে ১২টি আসন এখান থেকেই জিততে পারে বিজেপি।
অপরদিকে জেএমএমের আরও একটি কাঁটা হল আদিবাসী খ্রিষ্টানদের নিয়ে। জেএমএমে দলের অন্দরে অধিকাংশই আদিবাসী খ্রিষ্টান। সারনা আদিবাসীদের মতে, এই ধর্মান্তরিত আদিবাসীরা অবৈধভাবে সংরক্ষণের সুবিধা নিচ্ছে। যার জেরেই জেএমএমে বেসুরো হয়ে পড়েছেন সারনা আদিবাসীরা। স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে বিজেপিও। জেএমএমকে আদিবাসী দ্বন্দ্বের কাঁটায় বিদ্ধ করে সারনা আদিবাসীদের সমর্থন আদায় করছে বিজেপি।
২০১৯ সালে শেষ বিধানসভা নির্বাচনে ৮১টি আসনের মধ্যে ৩০টিতে জিতেছিল জেএমএম, কংগ্রেস ১৬টিতে ও ১টি আসনে জিতেছিল আরজেডি। তিনটি দল একজোট হয়ে ঝাড়খণ্ডে সরকার গঠন করে। অপরদিকে ২৫টি আসন জিতে ঝাড়খণ্ড হারাতে হয়েছিল বিজেপিকে। মাত্র দুটিতে জয়ী হয়েছিল আজসু পার্টি। তবে এবার ঝাড়খণ্ড জেতার আশায় মরিয়া গেরুয়া শিবির।












Click it and Unblock the Notifications