জয়পি ইনফ্রেটেক কেলেঙ্কারি কাণ্ডে ১২ হাজার কোটি কালো টাকা সাদা করার মামলায় ইডির জালে এমডি মনোজ গৌর

১২ হাজার কোটি কালো টাকা সাদা করার মামলায় গ্রেপ্তার হলেন জয়পি ইনফ্রেটেক লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনোজ গৌর। বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে ইডি।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, অবৈধ টাকা সাদা করা প্রতিরোধ আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে গৌরকে। অভিযোগ, বাড়ি ক্রেতাদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ ভিন্ন খাতে ব্যবহার করে বিশাল অঙ্কের টাকা ঘুরিয়ে ফেলা হয়েছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জয়পি ইনফ্রেটেক ও তার মূল সংস্থা জয়প্রকাশ অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আবাসন প্রকল্পের নাম করে হাজার হাজার ক্রেতার কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা হলেও, বহু বছর কেটে গেলেও সেই ফ্ল্যাটগুলির দখল মেলেনি।

২০১৭ সালে বাড়ি ক্রেতাদের বিক্ষোভের পর একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগ, প্রতারণা, ষড়যন্ত্র ও বিনিয়োগকারীদের ভুল পথে পরিচালিত করার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

ইডির দাবি, জয়পি উইশটাউন ও জয়পি গ্রীন্সের মতো প্রকল্পে বিশাল অঙ্কের টাকা উঠেছিল, কিন্তু সেই টাকা প্রকল্পে না লাগিয়ে অন্য সংস্থায় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০১০ থেকে ১১ সালেই বহু মানুষ ওই প্রকল্পে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, কিন্তু এখনও পর্যন্ত ঘর পাননি।

সূত্রের খবর, সংস্থার আর্থিক সিদ্ধান্ত ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় মূল ভূমিকা ছিল মনোজ গৌরের। তদন্তে উঠে এসেছে, বাড়ি ক্রেতাদের টাকাই নাকি ব্যবহৃত হয়েছে জয়পি গ্রুপের অন্যান্য ব্যবসায়।

চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে দিল্লি, নয়ডা, গাজিয়াবাদ ও মুম্বই সহ ১৫টি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। উদ্ধার হয়েছে নগদ ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা, এছাড়াও প্রচুর নথি, ডিজিটাল রেকর্ড ও প্রোমোটারদের সম্পত্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র।

তল্লাশি চালানো হয়েছে আরও কিছু রিয়েল এস্টেট সংস্থার অফিসেও, যেমন গৌর সনস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, গুলশন হোমজ প্রাইভেট লিমিটেড ও মহাগুন রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড, যাদের সঙ্গে জয়পির আর্থিক লেনদেন ছিল বলে সন্দেহ।

ইডির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বাজেয়াপ্ত নথিগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে টাকা কোন পথে ঘুরেছে তা জানার জন্য।

একসময় এনসিআর অঞ্চলে বৃহৎ আবাসন প্রকল্পের অগ্রদূত ছিল জয়পি ইনফ্রেটেক। কিন্তু আর্থিক সংকটে জর্জরিত হয়ে ২০১৭ সালে সংস্থাটিকে ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্সি কোডৈর আওতায় আনা হয়। তারপর থেকে একাধিক সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংস্থাটির সম্পদ অধিগ্রহণে আগ্রহ দেখিয়েছে, কিন্তু সমস্যার সুরাহা এখনও হয়নি।

ইডির মতে, গৃহক্রেতা ও ব্যাঙ্কের কাছ থেকে তোলা অর্থ নির্দিষ্ট প্রকল্পে ব্যবহার না করে, জয়পি গ্রুপের অন্যান্য সংস্থায় তা সরিয়ে ফেলার সন্দেহই এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+