মায়ের শেষকৃত্যে পৌঁছানোর জন্য ১১০০ কিমি রাস্তা পার করলেন জওয়ান
দেশ জুড়ে চলছে লকডাউন। বন্ধ পরিবহন ব্যবস্থা। আর তার মধ্যেই এল মর্মান্তিক খবর। মা আর নেই। ছত্তিশগড়ের মাওবাদী প্রভাবিত বিজাপুরে পোস্টিংয়ে রয়েছেন বছর ৩০–এর সন্তোষ যাদব। উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরের চুনারের শিখর গ্রামে থাকেন তাঁর পরিবার। সুযোগ নেই সেখানে পৌঁছনোর। কিন্তু হাল ছাড়ার পাত্র নন সন্তোষ। ১১০০ কিমি কঠিন রাস্তা অতিক্রম করেই মায়ের শেষকৃত্যে পৌঁছান তিনি।

সন্তোষ জানান 'মায়ের মৃত্যুর পরে আমি গ্রামে পৌঁছতে চেয়েছিলাম, কারণ ছোট ভাই এবং বিবাহিত বোন দুজনেই মুম্বাইয়ে থাকেন।’ সন্তোষ ঠিক করেন, যেমন করেই হোক বাড়ি তাঁকে যেতেই হবে। বাবার পাশে থাকতে হবে এই সময়। সেইমত তিনি বেরিয়ে পড়েন।
বিজাপুর থেকে চুনারের দূরত্ব ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার। প্রথমে বিজাপুর থেকে একটা ধান নিয়ে যাওয়া গাড়িতে চড়ে তিনি পৌঁছন জগদলপুর। সেখান থেকে একটি মিনি ট্রাক ধরে কোন্দাগাঁও। এর মধ্যে বাধা দিয়েছে পুলিশ। কিন্তু তাদের সব বুঝিয়ে ফের রওনা দেন তিনি। এক পুলিশ কর্মীর সাহায্যে একটি মেশিন ভর্তি ট্রাকে চড়ে পৌঁছান রায়পুর। রায়পুর থেকে ৮টি মালগাড়িতে চড়েন। চুনার স্টেশন থেকে ৫ কিলোমিটার হেঁটে পৌঁছান গঙ্গার ধারে। সেখান থেকে নৌকা ধরে গঙ্গা পার করে তারপর পৌঁছান গ্রামে। এই ক্ষেত্রে তাঁকে সাহায্য করেন তাঁর এক বন্ধু, যিনি আরপিএফে কর্মরত। ৭ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে বাড়ি পৌঁছান ১০ এপ্রিল।
সন্তোষ ২০০৯ সালে যোগ দেন ছত্তিশগড় আর্মড পুলিশে। তিনি বিজাপুর জেলার ধূর নকশাল–প্রভাবিত ধনৌড়া ক্যাম্পে (ভানপুর) রয়েছেন। দাদাও বিবাহিত ও বোন থাকেন মুম্বইতে। বাড়িতে বাবা, মা, স্ত্রী ও সন্তান। সন্তোষ জানিয়েছেন, দাদা ও বোন মুম্বই থেকে ফিরতে পারবেন না। তাই তিনি চলে এসেছেন।












Click it and Unblock the Notifications