জয়পুর সাহিত্য উৎসব ২০২৫: সাহিত্য-সংষ্কৃতির খোলামেলা আলোচনার প্রাণবন্ত হয়ে উঠল অনুষ্ঠান
জয়পুরে ১৮তম জয়পুর সাহিত্য উৎসবের সমাপ্তি হল ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে। স্থানীয় হোটেল ক্লার্কস আমিরে এই উৎসবটি ছিল সাহিত্য এবং সংস্কৃতিমূলক আলোচনাকে কেন্দ্র করে। প্রায় তিনশো জনেরও বেশি বক্তা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যার মধ্যে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী, বুকার পুরষ্কার বিজয়ী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা ছিলেন।
নোবেল বিজয়ী ভেঙ্কি রামকৃষ্ণনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন হয়। তিনি নিজের বক্তব্যে শিল্প ও বিজ্ঞানের মধ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উপর জোর দেন। বৈজ্ঞানিক কুশলতা মূল্যবোধ ব্যতীত অসম্পূর্ণ, এই বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।

এই সাহিত্য উৎসবে সাহিত্য ছাড়াও রাজনীতি, মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা, স্বাস্থ্য, মিউজিক, সিনেমা, শিল্পকলা সহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়েছে। দ্য পুওর ইকোনমি ফর ইয়ুথ,'' ''ভ্যাক্স নেশন,'' এবং ''চার্টিং টুমরো: ল অ্যান্ড লিডারশিপ'' এর মতো আলোচনার সেশনগুলি অত্যন্ত মনোগ্রাহী ছিল। এই সেশনগুলির পাশাপাশি, ভারতীয় পৌরাণিক কাহিনী এবং আধ্যাত্মিকতা অন্বেষণকারী বই প্রকাশের আয়োজন করা হয়েছিল।
অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, এস্থার ডুফলো, অভিনেতা রাহুল বোস, অমল পালেকর, লেখক গীতাঞ্জলি শ্রী এবং ইরা মুখোটির মতো বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি সাহিত্য উৎসবকে জীবন্ত করে তুলেছিল। আলোচনার সেশন শেষে জয়পুরে সঙ্গীতের মঞ্চে সঙ্গীতানুষ্ঠান আরও রঙীন করেছিল গোটা পরিবেশকে। কৈলাস খেরের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি হয়েছিল, যা ছিল বাড়তি পাওনা।
জয়পুর সাহিত্য উৎসব সাহিত্য ও শিল্পের মিলনক্ষেত্র হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের ওজস আর্ট অ্যাওয়ার্ডস স্থানীয় শিল্পী বিনিতা শর্মা এবং অজয় শর্মাকে দেওয়া হয়। ক্ষুদ্রাকৃতি শিল্পে (মিনিয়েচার আর্ট) তাঁদের কাজের স্বীকৃতি হিসাবে দেওয়া হয়। ''দেবী অ্যান্ড হার অবতারস'' এবং ''দ্য থার্ড আই অফ ইন্ডিয়ান আর্ট'' এর মতো শিরোনাম সমৃদ্ধ বই প্রকাশ হয়।
সাহিত্য-সংষ্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ফের একবার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখল জয়পুর সাহিত্য উৎসব। যেখানে নিজেদের অভিজ্ঞতা, মতামত প্রকাশের মধ্য দিয়ে বক্তারা কয়েকদিনের এই অনুষ্ঠানকে সবদিক থেকে সমৃদ্ধ করলেন।












Click it and Unblock the Notifications