Cyclone Dana:'দানা'-র আতঙ্ক মনে করাচ্ছে ১৯৯৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের কথা, কী বলছেন জগদীশপুরের বাসিন্দারা
ধেয়ে আসছে এক রাক্ষুসে ঘূর্ণিঝড়। ওড়িশা এবং বাংলা উপকূলে য়া আছড়ে পড়তে চলেছে ২৪ অক্টোবর। ওড়িশার ১৪ জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বুধবার থেকেই শুরু হয়ে যাবে বৃষ্টি। যে জেলাগুলির উপর গিয়ে ঘূর্ণিঝড় দানা বয়ে যাবে সেই তালিকায় অর্থাৎ হিটলিস্টে রয়েছে জগদীশপুর।
সেখানকার বাসিন্দাদের ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে। যাঁদের বাড়ি দুর্বল তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।। আগামী ৩ দিন সব স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের বাইরে বেরোতে নিষেধ করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই দানার আতঙ্কে কাঁপতে শুরু করেছেন জগদীশপুরের বাসিন্দারা।

১৯৯৯ সালের সুপার সাইক্লোনের কথা মনে পড়ছে তাঁদের। সেই ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে জগদীশপুরে যে ক্ষতি হয়েছিল সেটা এখনও তাঁদের মনে টাটকা। সমুদ্র থেকে ৪০০ মিটার দূরে রয়েছে এই জায়গাটি। যে পরিমাণ তাণ্ডব সেই সুপার সাইক্লোন জগদীশপুরে চালিয়েছিল যে সেখানকার বাসিন্দারা মনে করেছিলেন তাঁরা কেউ বাঁচবেন না। গোটা গ্রাম প্রায় সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। অসংখ্য ঘরবাড়ি ভেঙে গিয়েছিল। গাছ উপড়ে পড়েছিল। ভয়ঙ্কর সেই স্মৃতি এখনও ভুলতে পারছেন না বাসিন্দারা।
সেই সুপার সাইক্লোনে সমুদ্রের তীব্র জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছিলেন গ্রামে শতাধিক বাসিন্দা। আবার সেই জলোচ্ছ্বাস তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জগদীশপুরের বাসিন্দারা। আতঙ্কে ঘুম উড়ে গিয়েছে তাঁদের। সমুদ্রের সেই ফোঁসফোঁসানি এখনও তাঁদের কানে বাজে। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা এখনও সেই দিনের কথা মনে করতে চান না।
তাঁরা জানিয়েছেন আবারও সেই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেদিন মনে হচ্ছিল তাঁরা বোধ হয় তাঁর বাঁচবেন না। সহস্র ফনা সাপের মতো গোটা জগদীশপুর যেন গিলে খাবে সমুদ্র। সেদিন সমুদ্রের গ্রাস থেকে বাঁচতে অনেকে গাছে চড়ে বসেছিলেন। সেই স্মৃতি যেন আবার ভিড় করে আসছে 'দানা'-র আগমনের খবরে।
গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন সাইক্লোন সেন্টারে তাঁরা আশ্রয় নিলেও সেটাও যে রক্ষা পাবে এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। ইতিমধ্যেই শুকনো খাবার, জল মজুত করতে শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা। তার সঙ্গে জামাকাপড়, ওষুধ শিশুদের খাবারও সঙ্গে নিয়ে সেই সাইক্লোন স্টেন্টারে যাবেন বলে জানিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications