কাশ্মীর ভারতের অংশ, ভূস্বর্গে পৌঁছনোর আগেই স্পষ্ট বার্তা ইউরোপীয় দলের প্রতিনিধির
কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কাশ্মীর ভারতের অংশ। সেই নিরিখে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের বিষয়ে আমরা ভারতের সঙ্গে আছি।
কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কাশ্মীর ভারতের অংশ। সেই নিরিখে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের বিষয়ে আমরা ভারতের সঙ্গে আছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর এরকমই প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেল ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের থেকে। আজকেই কাশ্মীরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উপত্যকা সফরে যাচ্ছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮ জন প্রতিনিধিদের একটি দল। তার আগে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন ইউরোপীয় দল। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধিদের বৈঠকের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।

ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের পর সরকারের বক্তব্য
বৈঠকের পর সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ইউ প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাচ্ছেন। তাঁর আশা, জম্মু ও কাশ্মীর সহ এই প্রতিনিধিদের ভারতের বিভিন্ন রাজ্য সফর ফলপ্রসূ হবে। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈপরীত্য সম্পর্কে তাঁদের বোঝাপড়া সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে তাঁরা বুঝতে পারবেন, এই অঞ্চলগুলোর উন্নয়ন ও প্রশাসনে সরকার কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি ভারতের পক্ষ থেকে ইউর সাংসদদের কাছে দাবি করা হয়, সন্ত্রাসবাদীদের যারা মদদ দেয়, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। সন্ত্রাসবাদ রুখতে ভারত জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল।
|
ভারতের সঙ্গে রয়েছি, জানালেন ইউরোপীয় প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে চেক প্রজাতন্ত্র থেকে আসা টমাস ডেচভস্কি বলেন, "৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কারণ কাশঅমীর ভারতের অংশ। ভারত সরকারের পূর্ণ স্বাধীনতা আছে কাশ্মীর নিয়ে যেকোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আমরা এই বিষয়ে ভারতের সঙ্গেই রয়েছি।" এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রকাশিত মাসিক পত্রিকাতেও ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পক্ষে লিখেছিলেন ডেচভস্কি। তিনি লিখেছিলেন, ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের ফলে কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপ রোখা সম্ভব হবে। এই প্রবন্ধটি প্রকাশ হওয়ার পর পাকিস্তান থেকে প্রচুর ঘৃণা সূচক চিঠি ও মেইল পান তিনি।

কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জানানো হয় প্রতিনিধিদের
ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রতিনিধিরা। সেই বৈঠকে তাঁদের কাছে জম্মু-কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হয়। কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের তৈরি করা ভুল চিত্রকে প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরতে ডোভাল তাঁদের কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করেন। ডোভাল প্রতিনিধিদের জানা যে কাশ্মীরে এই মুহূর্তে গতিবিধি সংক্রান্ত কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। মোবাইল ও ল্যান্ডলাইন পরিষেবাও ১০০ শাতংশ সচল বলে প্রতিনিধিদেরকে বলেন জোভাল। পাশাপাশি জরুরি সামগ্রী ও ওষুধ পর্যপ্ত পরিমাণে মজুত করা রয়েছে বলেও প্রতিনিধিদেরকে জানানো হয়।

সফরের বিরোধিতায় সরব মেহবুবা
এদিকে কাশ্মীরে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সফর ঘিরে সরব বয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি অভিযোগ করেছেন যদি বিদেশের প্রতিনিধিরা কাশ্মীর সফরে আসতে পারে তাহলে রাহুল গান্ধীদের কেন কাশ্মীরে ঢুকতে দেওয়া হল না এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কারণ ৩৭০ ধারা বিলোপের পর কাশ্মীরের বাসিন্দারা কোন পরিস্থিতিতে রয়েছেন সেটা জানার জন্যই কংগ্রেস সহ বিরোধী দলের নেতারা কাশ্মীরে এসেছিলেন। কিন্তু শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

বিরোধিতা করছেন সুব্রহ্মণ্যম স্বামীও
কারণ অন্য হলেও সফরের বিরোধিতায় নেমেছেন রাজ্যসভায় বিজেপি-র সদস্য সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি এটা দেখে অবাক যে বিদেশমন্ত্রক এভাবে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের জন্য কাশ্মীর সফরের আয়োজন করেছে। এটা আমাদের জাতীয় নীতির খেলাপ। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যাতে এই সফর বাতিল করা হোক কারণ এটা অনৈতিক।"












Click it and Unblock the Notifications