বিজেপির সামনে রয়েছে অনেক চড়াই-উতরাই! অসুবিধা কাটাতে না পারলে মোদীর লক্ষ্য পূরণে বাধা হতে পারে
বিজেপির স্লোগান এবার বিজেপি চারশো পার। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিজেপির জন্য ৩৭০ আসন জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। বাকি আসন পূরণ করবে শরিকরা। তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা বেশ কঠিন। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ৩০৩ টি আসনে জয় পেয়েছিল। তারা পেয়েছিল মোট ভোটের ৩৭ শতাংশ। ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৯-এ বিজেপি ছয় শতাংশ বেশি ভোট পেয়েছিল এবং প্রায় ২১ টি আসন বেশি পেয়েছিল।
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি মূল তিন দাবির মধ্যে ৩৭০ ধারা অবলুপ্ত হয়েছে এবং অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরি হয়েছে। কিন্তু তারপরে লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে। সঙ্গে লক্ষ্য পূরণের চ্যালেঞ্জও বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন বিজেপির পক্ষে আগেকার সাফল্য পুনরাবৃত্তি করা কঠিন। বিজেপির সামনে বেশ কয়েকটি চড়াই-উৎরাই রয়েছে। যেগুলি না কাটিয়ে উঠতে পারলে মোদীর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা বেশ কঠিন গেরুয়া শিবিরের পক্ষে।

২০১৯-এর নির্বাচনে বিজেপি উত্তর প্রদেশের ৮০ টি আসনের মধ্যে ৬২ টিতে জয়লাভ করেছিল। তিনটি আসন জিতেছিল তাদের জোট। বহুজন সমাজপার্টি ১০ টি ও সমাজবাদী পার্টি পাঁচটি আসনে জয় পায়। সেই পরিস্থিতিতে যদি সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের মধ্যে আসন সমঝোতা হয়, তাহলে বিজেপির আগের বারের পারফরমেন্স পাওয়া কঠিন কাজ। সেক্ষেত্রে বিজেপি যদি এবার উত্তর প্রদেশে গতবারের ৬২ থেকে বাড়িয়ে ৭২ টি আসন না করতে পারে, তাহলে ৩৭০-এ পৌঁছনো কঠিন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, উত্তর ভারতে বিজেপির যেমন জনপ্রিয়তা বেড়ে, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে দিল্লি ও পঞ্জাবের মতো জায়গায় বিজেপি কিছুটা পিছনের দিকে সরে গিয়েছে। পঞ্জাবের বিজেপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আপের। সেখানে সঙ্গে নেই পুরনো সঙ্গী শিরোমণি অকালি দল। সেখানে তেরোটির মধ্যে দুটি আসন পাওয়া বিজেপির পক্ষে কঠিন কাজ।
অন্যদিকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পরে কাশ্মীরে প্রথমবার নির্বাচন হবে। লাদাখে সাম্প্রতিক আন্দোলনের জেরে সেখানকার আসনটি বিজেপির দখলে যাবে কিনা সন্দেহ। অন্যদিকে হিমাচল প্রদেশে কংগ্রেস এখন ক্ষমতায়। ফলে এইসব জায়গার সব আসন জয় বিজেপির পক্ষে কঠিন। আগেরবার বিজেপি দিল্লিতে সাতটি আসনের সবকটি জয় করলেও এই মুহুর্তে আপের যেরকম চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তাতে সেখানকার সব আসন জয় কঠিন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার বিজেপি বাংলা, বিহার ও ওড়িশায় ২০১৯-এর মতো ফল করতে পারবে না। ওড়িশায় বিজেপি গতবার আটটি আসন পেয়েছিল। অন্যদিকে বাংলা থেকে বিজেপি পেয়েছিল ১৮টি আসন। ৩৭০ ধারা এবং রাম মন্দির তৈরির পরেও এই দুই রাজ্য থেকে বিজেপি আগের বারের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা কম বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
মোদী দেওয়া লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে গেলে দক্ষিণ ভারতে বিজেপিকে ২৫টির জায়গায় অন্তত ৫০ টি আসনে জয় পেতে হবে। কিন্তু গতবার অর্থাৎ ২০১৯-এ বিজেপি অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে একটিও আসন পায়নি। এমন কী তামিলনাড়ুর ৪০ ও কেরলের ২০ টি আসনের মধ্যেও বিজেপি কিছু দখল করতে পারেনি। লক্ষ্যে পৌঁছতে গেলে এই তিন রাজ্যে বিজেপি একটি দুটি আসন পেলে হবে না অনেকগুলি করে আসন জয় করতে হবে।
দক্ষিণের রাজ্যগুলির ১১৮ টি আসনের মধ্যে ২০১৯-এ বিজেপি জয় করেছিল মাত্র চারটি আসন। সবগুলি তেলেঙ্গানা থেকে। কিন্তু এবার কংগ্রেস সেখানে সরকার তৈরি করেছে। ফলে চারটি আসন বিজেপি পাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে সেখানকার রাজনৈতিক মহলের। গতবার কর্নাটকে বিজেপি ২৮ টির মধ্যে ২৫ টি আসনে জয় পেয়েছিল। এবার সেখানে সরকার সরকার, সেক্ষেত্রে গেরুয়া শিবির রাজ্যে কটি আসন পাবে, তা ফলাফলই বলে দেবে।
২০১৯-এর নির্বাচনে বিজেপি সব থেকে বেশি ৬২ টি আসন পেয়েছিল উত্তর প্রদেশ থেকে। তারপর মহারাষ্ট্র থেকে। সেখানকার ৪৮ টি আসনের মধ্যে ২৩ টি আসনে জয় পেয়েছিল তারা। সেই সময় শিবসেনা সঙ্গে ছিল। তারপর শিবসেনা বিভিক্ত হয়েছে। ভাগ হয়েছে এনসিপিও। তারপরেই যদি ইন্ডিয়া ব্লক মহারাষ্ট্রে আসন সমঝোতা করতে পারে, তাহলে বিজেপির গতবারের আসন ধরে রাখা কঠিন কাজ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।












Click it and Unblock the Notifications