কেন কক্ষপথে যাওয়ার আগেই ভেঙে পড়ল উপগ্রহ, কারণ জানাল ইসরো
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (isro) কাছে বড় ধাক্কা। এদিন সকালে GISAT-1 উপগ্রহের উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণের মধ্যেই তা মহাকাশে ভেঙে পড়ে। যার জেরে পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণকারী একটি উপগ্রহকে হারায় ভারত। এদিনের ব্যর্থতা নিয়ে
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (isro) কাছে বড় ধাক্কা। এদিন সকালে GISAT-1 উপগ্রহের উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণের মধ্যেই তা মহাকাশে ভেঙে পড়ে। যার জেরে পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণকারী একটি উপগ্রহকে হারায় ভারত। এদিনের ব্যর্থতা নিয়ে অবশ্য কারণ খুঁজে পেয়েছে ভারতের মহাকাশ গবেষণাকারী সংস্থা।

ক্রায়োজেনিক স্টেজে ত্রুটি
এদিনের উৎক্ষেপণ সফল হলে EOS-03 পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহটিকে তার কক্ষপথে স্থান করা যেত। যদিও এদিন ভোরে উৎক্ষেপণের পাঁচ মিনিট পরেই জিএসএলভি রকেটটিতে ত্রুটি ধরা পড়ে যার জেরে ইসরোর এবারের মিশন অসফল হয়ে যায়। ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, এদিন প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপ পর্যন্ত ঠিকঠাকই কাজ হয়েছে। কিন্তু ত্রুটির কারণে ক্রায়োজেনিক স্টেজে ঠিক কাজ শুরু করতে পারেনি। যার জেরে এবারের মিশন ব্যর্থ হয়।
পৃথিবী থেকে উৎক্ষেপণের ১৮ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড পরে উপগ্রহটির বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল রকেট থেকে। কিন্তু ৫ মিনিট ৪০ সেকেন্ড পর থেকেই ত্রুটি ধরা পড়ে।

আগেও ক্রায়োজেনিক পর্যায়ে অসুবিধা
ক্রায়োজনিক আপার স্টেজে ক্রায়োজনিক ইঞ্জিনে তরল হাইড্রোজেন এবং তরল অক্সিজেন খুব কম তাপমাত্রায় রাখতে হয়। এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। শূন্যের থেকে শত শত ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে তাপমাত্রা প্রয়োজন। কোনও উপগ্রহের কক্ষপথে স্থাপনের ক্ষেত্রে এই ক্রায়োজনিক পর্যায়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ কেননা তা জিএসএলভিকে মহাকাশে নিয়ে যায়। ইসরো আগেও এই ক্রায়োজেনিক পর্যায়ে অসুবিধার সম্মুখীন হলেও, পরবর্তী সময়ে উপগ্রহের উৎপেক্ষণ সফল ভাবেই সম্পন্ন করেছে।

১৪ তম উৎক্ষেপণে চতুর্থ ব্যর্থতা
এদিনের উৎক্ষেপণ ছিল জিএসএলভি রকেটের সাহায্যে ১৪ তন উৎক্ষেপণ। আর ব্যর্থতার নিরিখে চতুর্থ। এই রকেট জিএসএলভির মার্ক টু-এর সংস্করণ। যার সাহায্যে ২০১৮-এর ডিসেম্বরে যোগাযোগের GSAT-7A-কে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। শেষবার এই রকেটের সাহায্যে কাজ করায় ব্যর্থতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল ২০১০ সালে।
তবে এদিনের ধাক্কা ইসরোর কাছে বড় ধাক্কা। কেননা, করোনা মহামারীর কারণে ইসরোর মিশন ইতিমধ্যেই দেরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গত বছরের মার্চের EOS-03-এর উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। প্রথমে প্রযুক্তিগত কারণে এবং পরে মহামারীর কারণে তা পিছিয়ে দিতে হয়।

প্রভাব পড়তে পারে অন্য মিশনগুলিতে
EOS-03 হল নতুন প্রজন্মের পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ। যা সময় মতো ছবি পাঠানোয় দক্ষ। যা দেশের বড় অংশে, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে কার্যকরী।
জানা গিয়েছে এই জিএসএলভি রকেটের সঙ্গে জড়িত আরও বেশ কয়েকটি মিশন এইবছর এবং পরবর্তী বছরগুলির জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু এদিনের ব্যর্থতার জেরে ওইগুলির সময়সূচির ওপরে প্রভাব পড়তে পারে।












Click it and Unblock the Notifications