কাশ্মীরে বসবাসকারী বহিরাগতরাই জঙ্গিদের নিশানায়, দাবি গোয়েন্দাদের
জম্মু–কাশ্মীরে দিল্লির উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে পাকিস্তান। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠীর এবার বহিরাগতদের নিশানা করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কাশ্মীরে যেসব বহিরাগতরা বসবাস করেন। শ্রীনগরের গোয়েন্দাদের শীর্ষ আধিকারিকরা জানান, উপত্যকা থেকে আর্টিকাল ৩৭০ ধারা উঠিয়ে নেওয়ায় ইসলামাবাদ এর প্রতিশোধ নেবে। কারণ এই বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার ফলে কাশ্মীরি ও বহিরাগতদের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়বে।

গত একমাস ধরে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে জঙ্গিদের বহু ফোন কলের তথ্য ফাঁস হয়েছে। যেখানে নবগঠিত কেন্দ্রশাসিত রাজ্য জম্মু–কাশ্মীরের শান্তি প্রক্রিয়া নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে সন্ত্রাসবাদীরা। এই ভয়াবহ ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দিয়েছে গোয়েন্দারা।
গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, এই ষড়যন্ত্রের পেছনে পাকিস্তানি সেনা এবং তাদের চর শাখা আইএসআইয়ের শীর্ষ নেতৃত্বদের সমর্থন রয়েছে। সম্প্রতি কুলগামে বাংলার পাঁচ শ্রমিককে অপহরণ করে খুন করে জঙ্গিরা। এর পেছনে আইএসআইয়ের হাত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দক্ষিণ কাশ্মীরে কুড়ি হাজারের মত শ্রমিক এবং দক্ষ কর্মীরা থাকেন। যাঁরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কাজের সূত্রে এখানে রয়েছেন। তাঁদের জীবন এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জম্মু–কাশ্মীরের পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, 'এই ষড়যন্ত্র মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৯০ সালের গোড়ার দিকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার ষড়যন্ত্রটি। যেখানে আইএসআই সমর্থিত সংগঠন কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নিশানা করেছিল। যার ফলস্বরূপ অধিকাংশ কাশ্মীরি পণ্ডিত উপত্যকা ছেড়ে চলে গিয়েছিল।’
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, দুশোযরও বেশি প্রশিক্ষণরত পাক জঙ্গি সহ পাঁচশোরও বেশি সশস্ত্র জঙ্গি কাশ্মীরে লুকিয়ে রয়েছে। বিদেশি কমান্ড্যারদের নির্দেশে তারা পরিচালিত হচ্ছে। সোপিয়ান, কুলগাম, পুলওয়ামা এবং অনন্তনাগ এই জায়গা প্রধানত জঙ্গিদের নিশানায় রয়েছে। দক্ষিণ কাশ্মীরের এই চার জায়গাতেই মূলতঃ জঙ্গি কার্যকলাপ হয়।
শ্রীনগর পুলিশের স্থানীয় গোয়েন্দার এক সদস্য বলেন, 'সম্প্রতি আইএসআই এটা নতুন কৌশল নিয়েছে যেখানে স্থানীয় সক্রিয় কমান্ড্যারদের বদলে পাক কমান্ড্যারদের নিয়োগ করা হয়েছে। পাক কমান্ড্যাররা আইএসআইদের কাছে বেশি বিশ্বস্ত এবং স্থানীয়দের চেয়ে এরা বেশি রূঢ়।’
জম্মু–কাশ্মীরে এখন সন্ত্রাসের নতুন মুখ রিয়াজ নাইকু। জানিয়েছে গোয়েন্দারা। সূত্রের খবরয, প্রাক্তন ট্রাক চালক নাইকু তথা হিজবুল মুজাহিদিনের কম্যান্ডার এখন জৈশে যোগ দিয়েছে। দক্ষিণ কাশ্মীরে তাকে দেখা গিয়েছে বলে খবর রয়েছে। নাইকু জৈশ ও লস্কর জঙ্গিদের উপত্যকায় ঢোকাতে সাহায্য করে। এক অডিও বার্তায় নাইকুকে বলতে শোনা গিয়েছে যে কাশ্মীরে থাকা বহিরাগতদেরই জঙ্গিরা নিশানা করবে। গোয়েন্দারা এই রিয়াজ নাইকুকে খুঁজছে। তাকে গ্রেফতার করতে পারলেই আরও অনেক তথ্য হাতে আসবে পুলিশের।












Click it and Unblock the Notifications