পহেলগাঁও হামলার পর কি কোনও বড় হামলার ছক কষছে TRF? গোয়েন্দাদের হাতে উঠে এল নতুন তথ্য
পহেলগাঁও-এ সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই গোয়েন্দা সূত্রে উঠে এল আরও বড় উদ্বেগের তথ্য। পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার শাখা 'দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট' (TRF) নতুন করে হামলার ছক কষছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা বিভাগ। কাশ্মীর জুড়ে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা, মোতায়েন হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম (QRT) ও নজরদারি বাহিনী।
সূত্রের খবর, TRF-এর লক্ষ্য এবার কাশ্মীরি পণ্ডিত, অভিবাসী শ্রমিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এক সপ্তাহ আগেই TRF একটি ভিডিও প্রকাশ করে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীকে হুমকি দেয়, যেখানে বলা হয়, ঘরবাড়ি ভাঙা বন্ধ না হলে হামলা অব্যাহত থাকবে। সেই ভিডিওর পরই এই সতর্কতা জারি করেছে নিরাপত্তা দপ্তর।

একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা আধিকারিক জানিয়েছেন, "আমরা স্পষ্ট তথ্য পেয়েছি যে সন্ত্রাসীরা নিরস্ত্র কর্মীদেরও টার্গেট করতে পারে। তাই প্রতিটি ইউনিটকে অনিয়মিত চলাফেরা ও কার্যকলাপ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে"।
তিনি আরও বলেন, "সকল স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও উচ্চ-মূল্যবান লক্ষ্যবস্তুগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ROP (Road Opening Party) ও নাকা ডিউটি-তে থাকা কর্মীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে"। এর পাশাপাশি, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের কর্তব্যরত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
TRF ২০১৯-২০ সালে আত্মপ্রকাশ করে এবং এরপর থেকেই একাধিক জঙ্গি হামলার দায় স্বীকার করেছে তারা। যদিও পহেলগাঁও হামলার দায় তারা প্রথমে নিলেও পরে তা অস্বীকার করে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই হামলার দায় থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখে লস্কর-ই-তৈয়বাও।
এদিকে মঙ্গলবারই পাকিস্তানকে জবাব দিতে ভারতীয় সেনাকে 'Full Freedom' দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গতকাল বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠকে দেশের তিন বাহিনী অর্থাৎ স্থল, আকাশ এবং বায়ুসেনার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও। আর সেই বৈঠকে ভারতীয় সেনাকে 'পূর্ণ স্বাধীনতা' দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে কড়া জবাব দেওয়া আমাদের মূল সংকল্প"। ভারতীয় সেনার পেশাদারিত্ব নিয়েও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কোন পদ্ধতিতে, কোন নিশানায়, কখন তারা জবাব দেবে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা আছে সেনার"।
ঠিক এমন সময়ই কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে অনেকটাই। স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, যেকোনো সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র রুখে দিতে তারা প্রস্তুত। আর এবার তো জঙ্গিদের দমন করতে সেনাদের সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া রয়েছে। অতএব, এবার জবাব হবে আরও জোরালো।












Click it and Unblock the Notifications