প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে কি দূরত্ব বাড়াচ্ছে তৃণমূল? ২০২৪-এর লক্ষ্যে তৃণমূলের 'নয়া' অবস্থানে জল্পনা
২০২৪ এর লক্ষ্যে কি তৃণমূল (Trinamool Congress) ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করল, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মন্তব্যে শুরু হয়েছে জল্পনা। দলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন বলেছেন,
২০২৪ এর লক্ষ্যে কি তৃণমূল (Trinamool Congress) ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করল, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মন্তব্যে শুরু হয়েছে জল্পনা। দলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন বলেছেন, আইপ্যাক হল রাজনৈতিক সহযোগী, রাজনৈতিক দলের থেকে তারা আলাদা।

প্রশান্ত কিশোরের থেকে আলাদা হওয়ার চেষ্টা
প্রশান্ত কিশোর কংগ্রেসের নেতৃত্ব ছাড়া বিজেপি বিরোধী ফ্রন্টের জন্য প্রচার চালাচ্ছেন। তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন বলেছেন, তৃণমূলের চাহিদা অনুযায়ী আইপ্যাক নির্দিষ্ট কিছু কাজ করে গিয়েছে। তারা সেইসব কাজ ভালই করেছে বলেও মন্তব্য করেছেন ডেরেক। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, তৃণমূল একটা রাজনৈতিক দল আর আইপ্যাক হল রাজনৈতিক সহযোগী। দু-তরফের মধ্যে ফারাকের চেষ্টা করেছেন তিনি। ২০২১-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছিল আইপ্যাক। কিন্তু নির্বাচনের ফল বেরনোর পরেই প্রশান্ত কিশোর দাবি করেছিলেন, তিনি সংগঠন থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন।

আইপ্যাকের সঙ্গে চুক্তি ৫ বছরের
ডেরেক ও'ব্রায়েন জানিয়েছেন, তৃণমূলই একমাত্র দল যারা আইপ্যাকের সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তি করেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল পাঁচবছরের জন্য চুক্তি করেছে আইপ্যাকের সঙ্গে। তিনি বলেছেন, একেবারে তৃণমূলস্তরে পৌঁছে যাওয়া, যোগাযোগ তৈরি করা এবং পরিকল্পনা তৈরি করা হল আইপ্যাকের কাজ। তবে কোনও ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তৃণমূলে ২১ সদস্যের ওয়ার্কিং কমিটি, জানিয়েছেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের নেতা।

সর্বোচ্চ ক্ষমতা মমতার হাতেই
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের তরফে দলের সংবিধান সংশোধন করে সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা তুলে দিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেক্ষেত্রে ওয়ার্কিং কমিটি কোনও সিদ্ধান্ত পাশ করালে, পছন্দ না হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই থাকবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার।

মন্তব্যে দূরত্ব বৃদ্ধির জল্পনা
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনো ফেলেইরো। তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার সদস্যও হয়ে গিয়েছেন। অন্যদিকে মেঘালয়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমাও তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তবে এই দুই ভিন রাজ্যের নেতা তাঁদের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পিছনে প্রশান্ত কিশোরের অবদানের কথা স্মরণ করেছেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী এই মন্তব্য নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। প্রশান্ত কিশোর পিছনে থেকে কাজ করবেন, তাই চেয়েছে তৃণমূল। কিন্তু তিনি দলের মুখ হয়ে উঠবেন, তা মেনে নেবে না ঘাসফুল শিবির।

পুরসভা নির্বাচনে পরামর্শ মানেনি তৃণমূল
সূত্রের খবর অনুযায়ী, কলকাতা পুরভোটের আগে দলের স্ট্র্যাটেজি কিংবা প্রার্থী তালিকা নিয়ে প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ মানেনি তৃণমূল কংগ্রেস। এছাড়াও কংগ্রেসকে নিয়ে প্রশান্ত কিশোরের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়েও তৃণমূল অস্বস্তিতে পড়েছে।
ডেরেক ও'ব্রায়েন সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, তৃণমূলের সিদ্ধান্ত হল বিজেপি শাসিত যেসব রাজ্যে বিরোধীরা দুর্বল সেখানে তারা সংগঠন বৃদ্ধি করবে। সেক্ষেত্রে তৃণমূল তামিলনাড়ু কিংবা মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে, যেখানে আগে থেকেই বিজেপি বিরোধী শক্তি রয়েছে, সেখানে তারা যাবেন না।












Click it and Unblock the Notifications