অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে কি নয়া অবস্থান কেন্দ্রের, সূত্রের ইঙ্গিতে জল্পনা
২০১৪ সালের পরে ২০১৯-এ আরও শক্তিশালী হয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। তারপরেই তারা কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে তৈরি হয় রামমন্দির। কিন্তু এসব ঘটনা কার্যত সম্প্রতি হয়ে যাওয়া লোকসভা নির্বাচনে কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি। বিজেপির আসন কমে ২৪০ হয়ে গিয়েছে। সরকার চালাতে গিয়ে তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি এবং নীতীশ কুমারের জেডিইউ-এর ওপরে।
লোকসভা নির্বাচনের আগেই বিজেপি শাসিত রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে কাজ শুরু করেছিল গেরুয়া শিবির। এবার বিজেপি সূত্রে খবর, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে সংসদে কোনও আইন আনতে আগ্রহী নয়। পরিবর্তে সরকার চাইছে রাজ্যগুলিই তাদের নিজেস্ব আইন আনুক। কেননা শরিকদলের ওপরে এই সরকার নির্ভরশীল। শরিক জেডিইউ আগেই জানিয়েছে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে ঐক্যমতের পথেই হাঁটবে তারা।

সূত্রের আরও খবর, উত্তরাখণ্ডের পরে অন্য বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি শীঘ্রই অভিন্ন দেওয়ানি বিধিকে অনুসরণ করবে। কেননা গুজরাত ও অসমের মতো রাজ্যগুলি ইতিমধ্যেই তাদের রাজ্যগুলিতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরাখণ্ডের বিজেপি শাসিত সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে আইন পাশ করিয়েছে। উত্তরের এই রাজ্য দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার প্রথম রাজ্য হয়ে উঠেছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতেতে সব ধর্মের জন্যই বিয়ে, বিবাহ বিচ্ছেদ এবং উত্তরাধিকারের জন্য একই আইন কার্যকরী হবে।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বলেছেন, তিনি এব্যাপারে আইন কমিশনের মূল্যায়নের জন্য অপেক্ষা করবেন। বিষয়টি এখনও সরকারের অ্যাজেন্ডায় রয়েছে বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী। এই আইন কমিশনই একটা সময় জনিয়েছিল দেশে এখনও তেমন পরিস্থিতি চালু হয়নি যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করতে হবে।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ব বোর্ড অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে ২২ তম আইন কমিশনের পদক্ষেপে যথেষ্টই সতর্ক। এছাড়া আরএসএসের সহযোগী সংস্থা ও আদিবাসীদের নিয়ে কাজ করা বনবাসী কল্যাণ আশ্রম আদিবাসীদের মধ্যে বিয়ে এবং সম্পত্তির অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছে। যে কারণে কেন্দ্রীয় সরকারকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে নয়া অবস্থান নিতে হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।












Click it and Unblock the Notifications