নওগাঁও থানার বিস্ফোরণ কাণ্ড দুর্ঘটনা নাকি লুকিয়ে থাকা জঙ্গি ছক? সন্ত্রাস যোগ অস্বীকার করলেও উঠে আসছে প্রশ্ন
শ্রীনগরের নওগাঁও থানায় শুক্রবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৯ জনের প্রাণহানি ও বহু মানুষের আহত হওয়ার পর পুরো উপত্যকা যেন স্তম্ভিত। থানার অর্ধেক ভবন ধসে গেছে, প্রায় ৩০০ ফুট দূরে পাওয়া গিয়েছে দেহাংশ।
আর এই বিস্ফোরণকে ঘিরে একদিকে পুলিশ দাবি করছে এটি সম্পূর্ণ দুর্ঘটনা, অন্যদিকে পাকিস্তান ভিত্তিক জৈশ ই মহম্মদের প্রক্সি সংগঠন পিপলস অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট ফ্রন্ট পিএএফএফ দায় স্বীকার করে নতুন করে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি করেছে।

ডিজিপির দাবি এটি নিছক দুর্ঘটনা, জম্মু কাশ্মীরের পুলিশের মহাপরিদর্শক ডিজিপি নলিন প্রভাত শনিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন "নওগাঁও থানায় হওয়া বিস্ফোরণের সঙ্গে সন্ত্রাসের কোনও যোগ নেই। এটি অস্থিতিশীল বিস্ফোরক সামগ্রী পরীক্ষার সময় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ।"
তদন্তের অংশ হিসেবে ৯ ও ১০ নভেম্বর ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, রাসায়নিক ও রিএজেন্ট। প্রায় ৩০০০ কেজি বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছিল টানা তল্লাশিতে।
এই সামগ্রীগুলির ফরেন্সিক পরীক্ষাই চলছিল ঘটনারদিন। ডিজিপির আরও বক্তব্য
" এফএসএল টিম সতর্কতা সত্ত্বেও নমুনা সংগ্রহের সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। অন্য কোন জল্পনার প্রয়োজন নেই।"
তবে ঘটনাস্থলের ধ্বংসস্তূপ ঘেঁটে তদন্তকারীদের সামনে এসেছে আরও একটি সম্ভাবনা,
থানার ভেতরে রাখা বাজেয়াপ্ত একটি গাড়িতে আইইডি বসানো ছিল কি? কিছু সাক্ষীর দাবি, ধ্বংসস্তূপের প্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছে দু'টি বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে।
এই অবস্থায় পিএএফএফ যখন বিস্ফোরণের দায় নিচ্ছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে
এটি কি সত্যিই দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত নাশকতা?
পিএএফএফ কে ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকায় রেখেছে। তাদের দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
নিহত ও আহতদের পরিচয় সহ
ডিজিপি জানিয়েছেন মোট ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ৩২ জন, যাঁদের মধ্যে ২৭ জন পুলিশ কর্মী। স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির ১ কর্মী, ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির ৩ সদস্য সহ ২ জন ক্রাইম সিন ফটোগ্রাফার, ম্যাজিস্ট্রেট টিমের ২ রাজস্ব কর্মী ও তদন্তকারী টিমের সঙ্গে যুক্ত এক দর্জি।
বিস্ফোরণের পর থানার মূল ভবন প্রায় পুরো ভেঙে পড়েছে, এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত পাশের ভবনও। চারদিকে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে। বিকট আওয়াজে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী ও স্নিফার ডগ। আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান শ্রীনগরের উপকমিশনার অক্ষয় লাবরু।
একদিকে পুলিশের স্পষ্ট বক্তব্য"এটি দুর্ঘটনা",
অন্যদিকে জৈশ ঘনিষ্ঠ সংগঠনের দায় স্বীকার যা তদন্তকে অন্য মাত্রা দিচ্ছে।
ধ্বংসের মাত্রা, সম্ভাব্য দ্বিতীয় বিস্ফোরণের ইঙ্গিত, অভিযুক্ত সংগঠনের বিবৃতি সহ সব মিলিয়ে এখন প্রশ্ন একটাই
নওগাঁও বিস্ফোরণের নেপথ্যে সত্যিই কি ছিল শুধুই অস্থিতিশীল রাসায়নিক, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় কোনও জঙ্গি ছক?












Click it and Unblock the Notifications