নেপালের ভূমিকম্পেই কি বাঁধ ভেঙেছে সিকিমের? বিপুল জল ভাসিয়ে নিল চারদিক?
সিকিমের বিপর্যয় ঠিক কোথায় গিয়ে শেষ হবে? পর্যটকরা কোথায়? রাশি রাশি প্রশ্ন ঘুরছে। রাক্ষুসে তিস্তা নদী কিছুটা তার গতি কমিয়েছে। কিন্তু এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ কী? কেন লোনাক হ্রদের জল ওভাবে উপচে পড়ল? কেনই বা চুংথাম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জলাধার ভেঙে পড়ল? তাই নিয়ে শুরু জল্পনা।
নেপালের ভূমিকম্পের কারণেই কি এই ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা গেল? ভূমিকম্পই কি হিমবাহ ফাটিয়ে দিয়েছে? জলাধার ভেঙে যাওয়ার পিছনে কি এই ভূমিকম্প রয়েছে? এইসব প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নেপালের ভূমিকম্পকে অন্যতম কারণ বলে প্রাথমিক আন্দাজ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন্দ্রীয় ভূমিকম্প নিয়ামক সংস্থা জানাচ্ছে, এই এলাকার মাটি কেঁপে উঠেছে দুবার। একবার মেঘালয়ে ভূমিকম্প হয়েছে। তার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নেপালেও ভূমিকম্প হয়। এই দুই ভূমিকম্পে বিস্তীর্ণ এলাকার মাটি কেঁপে উঠেছিল। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলা তো বটেই, ভুটান, বাংলাদেশেও এই কম্পন ভালোভাবে অনুভব হয়। হিমালয়ান রেঞ্জে কম্পনের প্রভাব ভালোভাবেই পড়বে। এই আন্দাজ করা অসম্ভব নয়।
জানা গিয়েছে, গত ১৫ দিনের মধ্যে চারটি ভূমিকম্প এই এলাকায় হয়েছে। তার মধ্যে দুটি ছোট আর বাকি দুটি মাঝারি। এর ফলে হিমবাহের অংশ ভেঙে লোনাক হ্রদে পড়তে পারে। বিশাল জলরাশির চাপ আর লোনাক ধরে রাখতে পারেনি৷ জল সব ঠেলে বেরিয়ে আসে৷ লোনাকের জল এসে পড়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির জলাধারে। চুংথাম জলাধারের বাঁধের পাঁচিলও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।
অনুমান করা হচ্ছে, বিপুল পরিমাণ জল এসে বাঁধের পাঁচিল ফাটিয়েছে। অথবা নেপালের ভূমিকম্পর কারণে এই বাঁধের পাঁচিল ফেটে যায়। নীচের অংশে চিড় খাওয়ার পর জলের চাপে ফাটল বাড়তে থাকে। একসময় সেই জল সব ভেঙে বেরিয়ে আসে। জানা গিয়েছে, এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সিকিমের সব থেকে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প। ১২০০ মেগাওয়াট তিস্তা স্টেজ ৩ হাইড্রো ইলেকট্রিক প্রকল্পের অংশ এটি।
জানা গিয়েছে, লোনাক হ্রদের আয়তন দুই গুণেরও কম এই মুহূর্তে। অর্থাৎ বিশাল পরিমাণ জলরাশি উপর থেকে এই জলাধারে পড়েছে। বাঁধের পাঁচিল আগেই ফেটে থাকলে, তা আর চাপ ধরে রাখতে পারেনি। হুড়মুড়িয়ে সব জল নেমে আসতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এমন ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতে বেশ কয়েকটি দেখা গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ ও হিমাচলপ্রদেশে একাধিকবার এই ঘটনা দেখা গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications