পাঞ্জাবের বিদ্রোহের আগুনের ছায়া কি পড়বে রাজস্থানে, গেহলটের বিরুদ্ধে কি ফের সুর চড়াবেন পাইলট ?
পাঞ্জাবের বিদ্রোহের আগুনের ছায়া কি পড়বে রাজস্থানে, গেহলটের বিরুদ্ধে কি ফের সুর চড়াবেন পাইলট ?
পাঞ্জাব কংগ্রেসের বিদ্রোহের আগুনের ছোঁয়া এসে পড়তে পারে রাজস্থানেও। প্রমাদ গুনছে কংগ্রেস। গত বছর অশোক গেহলটের সঙ্গে সচিন পাইলটের বিরোধ চরমে উঠেছিল। প্রকাশ্যে গেহলটের বিরুদ্ধে বিজ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন সচিন পাইলট। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য তার কয়েকদিন আগেই জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। সচিন পাইলটও সেই পথে হাঁটবেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। যদিও সেটা করেননি সচিন। হাইকমান্ডের নির্দেশ মেনে ঢোক গিলেই শেষ পর্যন্ত গেহলটের সঙ্গে সমঝোতায় হেঁেটছিলেন। তবে সেটা যে একেবারেই সুমধুর ছিল না। গলায় কাঁটা বেঁধার মতোই হয়ে রয়েছেন গেহলট সচিনের কাছে।

অমরিন্দরের পদত্যাগ
কংগ্রেসের বর্ষিয়ান নেতা অমরিন্দর সিংয়ের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা কংগ্রেসের অন্দরে হইচই ফেলে দিয়েছে। সিধুর সঙ্গে অমরিন্দরের বিবাদ এতটাই চরমে উঠেছিল যে শেষ পর্যন্ত অমরিন্দরকে পদ ছাড়তে বাধ্য করলেন তিনি। সিধু পাঞ্জাব কংগ্রেসের দায়ত্ব নেওয়ার পর থেকেই অমরিন্দরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ মাথাচারা দিয়েছিল। ভোট মুখী পাঞ্জাবে দলের অন্দরে এই বিক্ষোভ নিয়ে দোটানায় পড়েছিল কংগ্রেস। অমরিন্দর না সিধু কাকে গুরুত্ব দেবে তা নিয়ে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছিল। অমরিন্দরের মুখ্যমন্ত্রী পদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সিধু অনুগামীরা। শেষ পর্যন্ত এমন পরিসস্থিতি তৈরি হল যে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হলেন ক্যাপ্টেন।

পাঞ্জাবের ছায়া রাজস্থানে
পাঞ্জাব থেকে বেশি দুরে নয় রাজস্থান। পাশাপাশি রাজ্য। সেখানেও কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহ সুপ্ত রয়েছে। গেহলট বনাম সচিন পাইলট দুয়ের মধ্যে রেষারেষি নতুন কথা নয়। পাঞ্জাবের এই বিদ্রোহের আঁচ রাজস্থানেও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজস্থানে গত বছরই গেহলটের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন সচিন পাইলট। রাহুল গান্ধী ময়দানে নেমে কোনও রকমে সেই বিদ্রোহ ধামাচাপা দিয়েছিলেন। কিন্তু পাঞ্জাবের এই চরম সংকটের পর ফের সচিন পাইলট বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। রাজস্থানে এমনিতেও গেহলটের চেয়ে পাইলটের জনপ্রিয়তা বেশি।

পাইলটের দিকে পাল্লা ভারী
গোটা দেশে যখন গেরুয়া ঝড় বইছে তখন রাজস্থানে ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছে কংগ্রেস। এর নেপথ্যে রয়েছে সচিন পাইলটের কঠোর শ্রম এমনই মনে করেন রাজস্থান কংগ্রেসের অধিকাংশ নেতা মন্ত্রীই। কিন্তু রাজস্থানে জয়ের পর যখন গেহলটকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হয় তখন স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষুন্ন হয়েছিলেন পাইলট। কারন দল তাঁর শ্রমের মর্যাদা দেয়নি। সেই ক্ষোভের আগুন চাপা থাকতে থাকতেই একটা সময়ে ফেটে বেরিয়ে এসেছিল। সেসময অনেকেই দাবি তুলেছিলেন গেহলটকে সরিয়ে সচিন পাইলটকে মুখ্যমন্ত্রী করা হোক। পাঞ্জাবের ঘটনার পর ফের সচিন পাইলটকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি মাথাচারা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ছত্তিশগড়েও অসন্তোষ
পাঞ্জাবের পর ছত্তিশগড়ে শুরু হয়ে হিয়েছে। ভূপেশ বাঘেলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন ৫০ জন বিধায়ক। ইতিমধ্যেই তাঁরা দিল্লিতে গিয়ে হাইকমান্ডের কাছে ভূপেশ বাঘেলকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরানোর দাবি তুলেছেন। ভূপেশ বাঘেলের সঙ্গে রায়পুরে ম্যারাথন বৈঠক করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এই নিয়ে দফায় দফায় কংগ্রেস হাইকমান্ড বৈঠক করেছেন। এমনকী ভূপেশ বাঘেলকে দিল্লিতে ডেকেও পাঠানো হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications