সিন্ধিয়া-হার্দিক প্যাটেল-মিলিন্দ দেওরা, ২০২৪-র লোকসভা ভোটের আগে কংগ্রেস ছাড়ার তালিকাকী আরও দীর্ঘ হবে?
রবিবার সকালে সকলকে চমকে গিয়ে কংগ্রেস ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন মিলিন্দ দেওরা। নবীন প্রবীণের লড়াইয়ের জেরেই কি শেষ পর্যন্ত দল ছাড়লেন মিলিন্দ। কংগ্রেসের অন্দরে যে নবীন প্রবীণ বিরোধ প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে সেটা আর গোপন বিষয় নয়।
রাজস্থানের বিধানসভা ভোটের ফলাফলই সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। রাহুল গান্ধীকে সামনে রেখে নতুন করে সেজে উঠছিল কংগ্রেস। ২০১৪ লোকসভা ভোটে কেন্দ্রে মোদী ক্ষমতায় এলেও একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে কিন্তু কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল। যেমন মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান, কর্নাটকে কংগ্রেস সরকার গড়েছিল। সেসময় রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামিল হয়েছিলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া , সচিন পাইলটরা।

কিন্তু যখনই স্বীকৃতি বা পদে আসীন হওয়ার প্রসঙ্গ উঠল তখনই প্রাধান্য দেওয়া হয় প্রবীণদের। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হন কমলনাথ। আর রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রী করা হয় অশোক গেহলটকে। সেই শুরু হয় বিবাদ। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার সঙ্গে কমলনাথের বিরোধ এতোটাই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে কংগ্রেস ছেড়ে তিিন বিজেপিতে যোগ দেন। সঙ্গে সঙ্গে মধ্য প্রদেশে কমলনাথ সরকারের পতন ঘটে। ২০২০ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদেন সিন্ধিয়া। কংগ্রেসে নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা।
অন্যদিকে রাজস্থানেও গেহলট সরকারের অন্দরে বিরোধ প্রকট হয়ে উঠেছিল সচিন পাইলটের। প্রকাশ্যেই গেহলটের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিন পাইলট। কংগ্রেস না ছাড়লেও তিনি যে কোনও ভাবেই গেহলটকে সমর্থন বা সহযোগিতা তাঁর সরকারে করবেন না সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। কাজেই রাজস্থানে সরকারে থেকেও বেশ চাপে ছিল কংগ্রেস।
অন্যদিকে কংগ্রেসের আরেক যুব নেতা গুজরাতের ভোটের ঠিক আগেই দল ছাড়েন। যাঁর নাম হার্দিক প্যাটেল। ২০১৯ সালে পতিদার আন্দোলন জোরদার করে তুলেছিলেন হার্দিক প্যাটেল। কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২২ সালে আবার কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। কংগ্রেসে থাকাকালীন বিজেপির ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিলেন হার্দিক। তাঁকে পেয়েও ধরে রাখতে পারেনি কংগ্রেস। ২০২২ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন হার্দিক।
তালিকায় রয়েছে সুস্মিতা দেবের নামও। উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিতে কংগ্রেসের ঘাঁটি শক্তিশালী করার নেপথ্যে অন্যতম কারিগর ছিলেন সুস্মিতা দেব। কিন্তু ২০২১ সালে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। অসমের কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেত্রী ছিলে সুস্মিতা।
২০২২ সালে সিন্ধিয়ার পাশাপাশি আরও এক প্রভাবশালী নেতাকে হারিয়েছে কংগ্রেস তিনি জয়ভীর শেরগিল। গুলামনবি আজাদ কংগ্রেস ছাড়ার কয়েকদিনের মধ্যেই তিিন কংগ্রেস ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। কংগ্রেস যুবা মুখপাত্রদের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি। সেই বছরই তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।
এছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন অল্পেস ঠাকুর, অনিল অ্যান্টনি, জিতেন প্রসাদ। সবশেষে মিলিন্দ দেওরা। মিলিন্দ শিবসেনায় যোগ দিলেও বেশিরভাগ কংগ্রেস নেতাই দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ২০২৪-র লোকসভা ভোটের আগে প্রথম বড় ধাক্কা কংগ্রেসের। তালিকায় আরও নাম থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications