মমতার দাপুটে রাজনীতিকালে কি ম্লান হচ্ছেন মায়াবতী! হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আগে বহেনজির ঘরে কী পরিস্থিতি
ভারতীয় রাজনীতিতে মোদী বিরোধী নারীশক্তির মধ্যে মায়া ও মমতার দুই তাবড় নাম! এদিকে, বিজেপি বিরোধী জোটেও দিদির সঙ্গেই কার্যত প্রথমের দিকে পাল্লা দিয়ে একাধিক দলের সঙ্গে আপাত সমঝোতার হাত মিলিয়ে বিরোধিদের হাত শক্ত করেন উত্তর প্রদেশের 'বহেনজি'। তবে ২০২২ উত্তর প্রদেশ নির্বাচন (Uttar Pradesh Assembly Election) এর আগে, মায়াবতী শিবির ক্রমাগত কোণঠাসা হচ্ছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। একদিকে ভারতীয় রাজনীতিতে ক্রমাগত দাপট বাড়িয়ে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কার্যত বিজেপি বিরোধী শক্তির মধ্যে মমতা এই মুহূর্তে বড় নাম। সেই জায়গা থেকে মায়বতীর পার্টির অন্দরমহলে কী পরিস্থিতি দেখা যাক।

'একলা চলো'র ডাক
২০২১ বাংলার বিধানসভা চলাকালীন, বাংলার বাইরের বিভিন্ন অবিজেপি রাজনৈতিক শক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এসে দাঁড়ান। গোবলয় রাজনীতির সপার অখিলেশ থেকে শুরু করে আরজেডির তেজস্বীরা মমতাক সম্পূর্ণ সমর্থন জানান। সেই সময় মায়াবতী সাফ জানিয়েছিলেন যে , এবার তিনি একলা চলো নীতিতে এগোতে চান। এককালে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মায়া বলেন, বহু সময় জোট গড়ে , তাঁর দল বিএসপির শক্তির সুযোগ নিয়েছে জোটশরিক অন্য দল। তবে তার শিকিভাগও অন্যদলের থেকে পায়নি বিএসপি। ফলে নেত্রী মায়াবতী একলা চলোর ডাক তখন থেকেই দিয়ে দেন।

পর পর হেভিওয়েটরা বহেনজির সঙ্গ ছাড়ছেন!
এদিকে উত্তর প্রদেশের হাইভোল্টেজ নির্বাচন আসতে আর মাত্র ৮ মাস দেরি। তার আগে মায়াবতীর পার্টি বিএসপি তাদের দুই হেভিওয়েটকে দল থেকে বহিষ্কার করল। দল সাফ জানিয়েছে, শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে এই দুই নেতা লালজি বর্মা ও রামাচল রাজভরকে সরানো হয়েছে। প্রসঙ্গত এই দুই নেতাই এককালে মায়া মন্ত্রিসভায় উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ছিলেন।

লক্ষ্য ২০২৪, কী পরিস্থিতি মায়াবতীর দলের?
২০২৪ সালের দিকে তাকিয়ে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক শক্তিই লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি ধীরে ধীরে নিতে শুরু করছে। যার লিটমাস টেস্ট কার্যত ২০২২ উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোট। এমন পরিস্থিতিতে মায়াবতীর হোমগ্রাউন্ড উত্তরপ্রদেশে পঞ্চায়েত ভোটে বহনজির দল যথেষ্ট পিছিয়ে যায়। তার সাপেক্ষেই দলের এই দুই হেভিওয়েটকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যারক জেরে এককালে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ময়াবতীর কাছে আপাতত ৮ জন বিধায়ক যাঁরা দলের প্রতি অনুগত। অন্যদিকে, বাংলায় ক্রমেই শক্তি বাড়িয়েছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর তখতে বসতেই ২০২১ থেকেই তাঁর নামে 'বাঙালি প্রধানমন্ত্রী' চাইয়ের ধ্বনি টুইটারে ট্রেন্ড করছে। ফলে সেই দিক থেকে তুলনামূলকভাব অনেকটাই ব্যাকফুটে বহেনজি।

কেন বহিষ্কার নেতাদের?
প্রসঙ্গত, জানা গিয়েছে, বিএসপির একাধিক নেতা বিদ্রোহ ঘোষণা করতে শুরু করেছে দলে। ১৯ জনেরম মধ্যে মায়াবতীর দলের ১১ জন বিধায়কই দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। এঁদের মধ্যে অনেকেই সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে গোপনে যোগ রাখছেন বলে খবর। এমন পরিস্থিতিতে মাত্র ৮ মাস বাকি থাকতে উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে 'মায়ার খেলা' দেখার অপেক্ষায় গোটা দেশ।












Click it and Unblock the Notifications