ইডি কি প্রতিশোধমূলক সংস্থা? মমতার বাংলায় একাধিক তদন্তের মধ্যে 'ঝাঁকুনি' দিল সুপ্রিম কোর্ট
পশ্চিমবঙ্গের একাধিক মামলায় যুক্ত হয়েছে ইডি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের তলব করেছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। তারই মধ্যে ইডি প্রতিশোধমূলক সংস্থা কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল সর্বোচ্চ আদালত। অর্থ-পাচারের মামলায় দুটি গ্রেফতার বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট ইডিকে তিরস্কার করে বলেছে তদন্তকারী এই সংস্থা প্রতিশোধমূলক হতে পারে না। সর্বোচ্চ মাত্রা ন্যায্যতার সঙ্গে কাজ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেছে সর্বোচ্চ আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট একটি মানি লন্ডারিং মামলায় গুরুগ্রাম ভিত্তিক রিয়েলটি গ্রুপ এমথ্রিএম-এর ডিরেক্টর বসন্ত বনশাল ও পঙ্কজ বনশালের গ্রেফতার বাতিল করে দিয়েছে। বনশালরা পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের একটি আদেশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালতে তাঁরা তাঁদের গ্রেফতারের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেন।

শীর্ষ আদালত উল্লেখ করেছে, বনশালদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ জুন তলব করা হয়েছিল এবং একই দিনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের নথিভুক্ত আরেকটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। এদিন আপলোড করা রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ইডির প্রতিটি কাজ স্বচ্ছ, বোর্ডের ঊর্ধ্বে এবং কাজে ন্যায্য হওয়ার প্রাথমিক মানগুলির সঙ্গে সামঞ্চস্যপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এক্ষেত্রে ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে তদন্তকারী সংস্থা তার কার্য সম্পাদন করতে এবং তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিচারপতিরা বলেছেন, ইডির আচরণ প্রতিশোধমূলক হতে হবে, তা আশা করা যায় না। তদন্তকারী সংস্থাকে অবশ্যই সর্বোচ্চমাত্রা নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য গ্রেফতার যথেষ্ট কারণ হতে পারে না বলেও জানায় সর্বোচ্চ আদালত। সমনের জবাবে একদিকে যেমন অসহযোগিতা করা যাবে না, অন্যদিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা ব্যক্তির কাছ থেকে দোষ স্বীকার করার আশা করা ছাড়া ইডির আর কিছুই করার নেই।
ইডির প্রাক্তন বিশেষ বিচারক সুধীর পারমার এবং তার ভাগ্নে রূপকুমার বনশালের বিরুদ্ধে একটি ঘুষের অভিযোগে বসন্ত বনশাল ও পঙ্কজ বনশালকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ইডি দাবি করেছে, নির্ভরযোগ্য তথ্য ছিল, সুধীর পারমার রূপ কুমার বনশাল ও তাঁর ভাই বসন্ত বনশালের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছেন। বসন্ত ও পঙ্কজতে তদন্তের জন্য তলব করা হয়েছিল এবং পরে গ্রেফতার করা হয়।












Click it and Unblock the Notifications