ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ, চেন্নাই থেকে বৃদ্ধকে গ্রেফতার উত্তরপ্রদেশ পুলিশের
ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অপরাধে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দল চেন্নাই থেকে ৬২ বছরের এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত ব্যক্তির নাম মনমোহন মিশ্র। মনমোহন উত্তরপ্রদেশের জনপুরের বাসিন্দা হলেও গত ৩৫ বছর ধরে তিনি চেন্নাইয়ে বসবাস করছেন। তিনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে মোদীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা
জানা গিয়েছে, মাত্র ৭১০ সাবস্ক্রাইবার মনমোহনের ইউটিউব চ্যানেলে আর সেখানেই তিনি মোদীকে নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন। গত ১৩ অগাস্ট তাঁর সাম্প্রতিকতম ভিডিওতে মনমোহন পুনরায় নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করেন এবং সেই ভিডিও তাঁর চ্যানেলে সর্বোচ্চ ভিউজ, ১,১০০ জন দেখেন। মনমোহন তাঁর ভিডিওতে বহুবার মোদীকে কটাক্ষ করার সময় প্রধানমন্ত্রীর নাম ধরে সমালোচনা করেন এবং মোদীর নীতি ও করোনা সংক্রান্ত কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ট্রানজিট রিমান্ডে উত্তরপ্রদেশ আনা হচ্ছে ধৃতকে
গ্রেফতারের ২দিন আগেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ চেন্নাইতে পৌঁছান এবং স্থানীয় পুলিশকে গোটা ঘটনাটি জানায়। মনমোহন মিশ্রকে গ্রেফতারের পর তাঁকে মাধবরম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পেশ করা হয় এবং তাঁর ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর হয়। নিজের চ্যানেলে মোদীর পদত্যাগ চেয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন মনমোহন। তবে কোন ধারায় মনমোহনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তা এখনও অজানা।

কে এই মনমোহন মিশ্র
জানা গিয়েছে, গত ৩৫ বছর ধরে চেন্নাইতে বাস করছেন মনমোহন মিশ্র। চেন্নাইয়ের মাধবরম এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বাস করেন তিনি। তামিল ভাষা ইতিমধ্যেই রপ্ত করে নিয়েছেন। সরকারি পরিষেবা, শংসাপত্রের জন্য উত্তরভারতের শ্রমিক, পরিবারের এজেন্ট হিসাবে কাজ করতেন। ওঁদের আধার-প্যান কার্ড তৈরি করে দিতেন। তিনি তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে শুধু মোদীর সমালোচনাই নয়, সরব হয়েছেন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধেও।

মাতঙ্গিনী হাজরা নিয়ে ভুল মন্তব্য মোদীর
অন্যদিকে, ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরাকে অসমের বলে মন্তব্য করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই মন্তব্যের পর মোদীর সমালোচনায় সরব হন বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি তোলেন বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীরা। ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের স্মরণ করছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ-সহ একাধিক মহিলা যোদ্ধাকে সম্মান জানান তিনি। বিভিন্ন রাজ্যের বীরাঙ্গনাদের নামের পাশাপাশি উচ্চারিত হয় তমলুকের মাতঙ্গিনী হাজরার নাম। কিন্তু তাঁকে বাংলার স্বাধীনতা যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বদলে অসমের বীরাঙ্গনা বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। এর পরই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications