পাথরের বদলে বাদ গেল গোটা কিডনি, রোগীর মৃত্যুতে পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ হাসপাতালকে
রোগীর মৃত্যুতে পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ হাসপাতালকে
হাসপাতালের গাফিলতির জন্য বেঘোরে মারা যান গুজরাতের এক ব্যক্তি। কিডনিতে জমে থাকা পাথরের বদলে গোচা কিডনি বাদ দেওয়ায় মৃত্যু হয় তাঁর। এ রাজ্যের মহিশাগড় জেলার এক হাসপাতালে অসহ্য পিঠে ব্যথা, সঙ্গে প্রস্রাবে সমস্যা নিয়ে দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন যে কিডনিতে পাথর জমেছে তা বের করতে হবে। কিন্তু চিকিৎসকের দল ওই ব্যক্তির বাঁ–দিকের কিডনি কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া কিছুদিনের মধ্যেই মৃত্যু হয় রোগীর। শেষ পর্যন্ত জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত। এই ঘটনার জেরে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ১১ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

জানা গিয়েছে, ২০১১ সালে মৃত দেবেন্দ্রভাই রাভাল কিডনি থেকে স্টোন বের করার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন বালিসিনোরের কেএমজি জেনারেল হাসপাতালে। মৃত ব্যক্তির স্ত্রীয়ের করা আবেদনের শুনানিতে গুজরাতের রাজ্য উপভোক্তা কমিশন কেএমজি হাসপাতালকে ১১.২৩ লক্ষ টাকা মৃতের পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। উপভোক্তা প্যানেল এও জানিয়েছে যে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর দায় হাসপাতালের কর্মচারিদেরও নিতে হবে। কারণ পরিবারের দাবি কিডনি বাদ দেওয়ার ঘটনা চিকিৎসকরা প্রথমে তাদের জানায়নি।
খেদা জেলার বাসিন্দা দেবেন্দ্রভাই রাভাল। ২০১১ সালের মে মাসে হঠাৎই পিঠে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয় তাঁর। সঙ্গে প্রস্রাবের সমস্যাও দেখা দেয়। এর পরই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বালাসিনরো শহরের কেএমজি হাসপাতালে যান তিনি। সেখানকার চিকিৎসক শিবুভাই প্যাটেলকে দেখান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি জানান, দেবেন্দ্রভাইয়ের কিডনিতে ১৫ মিলিমিটার লম্বা পাথর জমেছে। অস্ত্রোপচার করতে হবে। ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর রাভালের অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের সময় পাথরের বদলে পুরো কিডনিটা বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের দাবি, রোগীকে বাঁচাতে কিডনি বাদ দেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এ সম্পর্কে প্রথমে রোগীর পরিবারকে কিছুই জানানো হয়নি। চার মাস পরে নতুন করে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাঁকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। তখনই কিডনি বাদ দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়। চিকিৎসা চলাকালীন ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি দেবেন্দ্রভাইয়ের মৃত্যুও হয়। এর পরই আদালতের দ্বারস্থ হন দেবেন্দ্রভাইয়ের স্ত্রী। মামলায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক-সহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, রোগীর পরিবারের পক্ষেই রায় দিয়েছে উপভোক্তা বিষয়ক আদালত।












Click it and Unblock the Notifications