'ইনশাআল্লাহ, আমরা গুলি বর্ষণ করবো,' পহেলগাঁওয়ে হামলার আগে রক্তপাতের হুঁশিয়ারি লস্কর কমান্ডারের!
পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এদিকে এই হামলার কিছুদিন আগেই লস্কর-ই-তৈবার এক কমান্ডার একটি জনসমাবেশে জিহাদ ও রক্তপাতের মত উস্কানিমূলক বার্তা দেয়। ১৮ এপ্রিল পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) রাওয়ালকোটের খাই গালায় এই সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে লস্কর-ই-তৈবার কমান্ডার আবু মুসা ৩৭০ ধারা বাতিল এবং কাশ্মীরের জনসংখ্যা পরিবর্তনের কথিত প্রচেষ্টার উল্লেখ করে উপত্যকা হামলার আহ্বান জানানো হয়।
তথাকথিত জম্মু কাশ্মীর ইউনাইটেড মুভমেন্টের (জেকেইউএম) নেতা আবু মুসার বক্তব্য, "ভারত জনসংখ্যা পরিবর্তনের লক্ষ্যে ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা বাতিল করেছে। আপনারা আপনাদের ১০ লক্ষ সেনা মোতায়েন করেছেন। আপনারা পুলওয়ামা, পুঞ্চ, রাজৌরিতে 'রাম রাম' ধ্বনিত করতে চেয়েছিলেন। লস্কর-ই-তৈবা আপনাদের সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে। মোদী, আপনার বন্ধ আদালতের কক্ষে আপনি আপনার ফরমান জারি করেছন। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্র মুজাহিদদের জন্য উন্মুক্ত।"

এছাড়াও বলা হয়, "আপনারা চেষ্টা করে দেখুন, ইনশাআল্লাহ, আমরা গুলি চালাব, আপনাদের গলা কেটে ফেলব এবং আমাদের শহীদদের আত্মত্যাগ মর্যাদা দেব।" উল্লেখ্য, ১৮ এপ্রিলের এই সমাবেশটি মূলত দুই জঙ্গি - আকিফ হালিম ও আব্দুল ওহাবের প্রতি "শ্রদ্ধাঞ্জলি সম্মেলন" হিসেবে আয়োজিত হয়েছিল। হালিম ১৭ মার্চ কুপওয়ারায় ২১ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের হাতে নিহত হয় এবং আব্দুল ওহাব ২৪ এপ্রিল, ২০২৪ তারিখে সোপোরে এক সংঘর্ষে প্রাণ হারায়।
এই হুমকির কয়েক দিন পর, মঙ্গলবার পহেলগামে একটি সন্ত্রাসী হামলা হয়। যাতে বহু পর্যটক নিহত ও আহত হন। নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারীদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে। জানা গিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ড চালাতে জঙ্গিরা একে ৪৭-এর সাহায্য নেয়। বহু আহতদের পরিবার সূত্রে খবর, নিহতদের দূর থেকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়। অনেকে বলছেন জঙ্গিদের হাতে ছিল অটোমেটেড বন্দুক।
অন্যদিকে লস্কর কমান্ডারের এই রক্তপাতের ডাক এবং পহেলগাঁও হামলা একই সূত্রে গাঁথা কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেইসঙ্গে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications