কেরলে NCERT-র সিলেবাসের মুছে দেওয়া অংশ পড়ানোর উদ্যোগ! মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন দায়িত্ব দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রীকে
এনসিইআরটির একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সিলেবার থেকে মহাত্মা গান্ধীর হত্যা এবং আরএসএস-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয়গুসি বাদ দিয়েছে। সেই বাদ দেওয়া অংশই কেরলে পড়ানোর উদ্যোগ। এব্যাপারে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব দিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীকে।
সম্প্রতি এনসিইআরটি পাঠ্যক্রমের যৌক্তিককরণের নামে মহাত্মা গান্ধী এবং তাঁর হিন্দু মুসলিম ঐক্যের সাধনা দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাসের বই থেকে বাদ দিয়েছে। এছাড়া গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের পরে সরকার আরএসএসের ওপরে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সেই অংশও বাদ দিয়েছে। এরপর পাঠ্যপুস্তক সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এনসিইআরটি।

সেই পরিস্থিতিতে কেরলের স্টেট কাউন্সিল অফ এডুকেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং এবং পাঠ্ক্রম কমিটি এনসিইআরটির এই মুছে ফেলা অংশগুলিকে সেখানকার পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে। এব্যাপারে মঙ্গলবার বৈঠক হয়। এরপর মুখ্।মন্ত্রী সঙ্গে পরামর্শ করার পরে পুরো বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষামন্ত্রী ভি শিভানকুট্টিকে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, এনসিইআরটির সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী, কেরল তাদের ৪৪ টি পাঠ্যপুস্তক ব্যবহার করে। তার মধ্যে উচ্চমাধ্যমিকের ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান-সহ বিভিন্ন বিষয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে।

মন্ত্রী জানিয়েছেন পাঠ্যক্রম কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে পাঠ্য বই থেকে বাদ পড়া সব অংশ কে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের শেখানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে দিয়েছেন, তাও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এনসিইআরটিকে কটাক্ষ করে মন্ত্রী বলেছএন, গান্ধীকে হত্যা করা হয়েছিল, কিন্তু সেই জায়গায় এনসিইআরটির পাঠ্যপুস্তকে বলা হয়েছে গান্ধী মারা গিয়েছিলেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন এনসিইআরটির মুছে ফেলা অংশ অন্তর্ভুক্ত করে এই শিক্ষাবর্ষেই ছাত্রছাত্রীদের শেখানো হবে।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন এনসিইআরটির দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক থেকে কিছু অংশ বাদ দেওয়ার তীব্র নিন্দা করেছিলেন এবং তিনি অভিযোগ করে বলেছিলেন বইগুলিকে পুরোপুরি গেরুয়াকরণের জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত এনসিইআরটির পাঠ্যপুস্তক থেকে মুছে দেওয়া অংশগুলির মধ্যে রয়েছে গান্ধীজির মৃত্যুর পরে দেশের সাম্প্রদায়িতক পরিস্থিতির ওপরে প্রভাব, গিন্দু-মুসলিম ঐক্যের জন্য গান্ধীর চেষ্টার ফলে হিন্দু চরমপন্থীদের ক্ষুব্ধ হওয়া এবং আরএসএসের মতো সংগঠনগুলিকে নিষিদ্ধ করার মতো বিষয়।
দ্বাদশ শ্রেণির দুটি পাঠ্যপুস্তক থেকে সরিয়ে নেওয়ার কয়েক মাস পরে গুজরাট দাঙ্গার অংশগুলি একাদশ শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে কংগ্রেস কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগ তুলেছে। যদিও এনসিইআরটির প্রধান বলছেন এই বছর এনসিইআরটির পাঠ্যক্রম থেকে কোনও কিছু বাদ দেওয়া হয়নি।












Click it and Unblock the Notifications