ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা বিপর্যস্ত হওয়ায় ভার্চুয়ালি রিসেপশনে যোগ দিলেন নবদম্পতি, ক্ষোভ পরিবারের
মণ্ডপসজ্জা থেকে অতিথি আপ্যায়নের যাবতীয় বন্দোবস্ত হয়ে গিয়েছিল যথাসময়েই। যদিও নিজেদের বিয়ের রিসপশনেই হাজির হতে পারলেন না নবদম্পতি। কারণ, ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবায় বিভ্রাট।
দেশজুড়ে এই বিমান সংস্থার পরিষেবার বিপর্যয়ে, বিশেষ করে ইন্ডিগোর কর্মী সংকটের জেরে, বহু যাত্রী ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। তবে মেঘা ক্ষীরসাগর ও সঙ্গম দাসের জীবনে তা হয়ে থাকল স্মরণীয়। কেন না, নিজেদের বিয়ের রিসেপশনে তাঁদের ৩ ডিসেম্বর ভুবনেশ্বর থেকে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকতে হলো।

গুরুত্বপূর্ণ দিনটি হাতছাড়া করতে না চেয়ে, নবদম্পতি ভুবনেশ্বর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক বিশাল পর্দায় রিসেপশনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করেন কনের বাবা-মা, অনিল কুমার ক্ষীরসাগর ও তাঁর স্ত্রী। যা হুব্বালির গুজরাত ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৩ নভেম্বর ওডিশার ভুবনেশ্বরে বিয়ে করেন বেঙ্গালুরুতে কর্মরত এই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার দম্পতি।
বিশেষ দিনের জন্য দম্পতি ২ ডিসেম্বরের ভুবনেশ্বর-বেঙ্গালুরু-হুব্বালি রুটে টিকিট কেটেছিলেন। আত্মীয়স্বজনদের অনেকেই ভুবনেশ্বর-মুম্বাই-হুব্বালি পথে টিকিট বুক করেন। তবে ইন্ডিগো বিমান পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় ২ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে ৩ ডিসেম্বর ভোর পর্যন্ত ফ্লাইটগুলো একনাগাড়ে বিলম্বিত হয়, এবং অবশেষে বাতিল করে দেওয়া হয়।
কনের বাবা অনিল কুমার ক্ষীরসাগর জানান, "আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছিল ২৩ নভেম্বর এবং আমরা এখানে হুব্বালিতে আমাদের পৈতৃক নিবাসে একটি রিসেপশন আয়োজন করেছিলাম। ফ্লাইট ক্রমাগত দেরি হচ্ছিল এবং শেষ মুহূর্তে, ভোর ৪টার দিকে, এটি বাতিল হয়ে গেল।"
তিনি আরও বলেন, "এরপর আমরা কী করতে পারতাম? একটি সমাধানের পথ খুঁজতে হতো। তখনই আমি অনলাইনে রিসেপশনের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিই। আমি দ্রুত একটি পর্দার ব্যবস্থা করে আমার মেয়ে ও জামাইকে অনলাইনে যোগ দিতে বলি।"
মুম্বই, পুনে, হায়দ্রাবাদ, বাগলকোট, দাভানগেরে এবং বেলাগাভির মতো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আত্মীয়-অতিথিরা এসেছিলেন। এ নিয়ে ক্ষীরসাগর বলেন, "এত জায়গা থেকে আত্মীয়স্বজন ও অতিথিরা আসায় কী করব বুঝতে পারছিলাম না। আমি খুব চাপে ছিলাম, কিন্তু দ্রুত অনলাইনে এটি করার সিদ্ধান্ত নিই।"
বিমান পরিষেবা বিপর্যয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কনের বাবা অনিল কুমার ক্ষীরসাগর বলেন, "ইন্ডিগোর কী সমস্যা, আমরা জানি না। আমার মেয়ে ও জামাইয়ের ইন্ডিগো ফ্লাইটে আসার কথা ছিল, কিন্তু সেটি বাতিল হয়ে গেল।"
তিনি আরও বলেন, "শুধু ইন্ডিগোকে এক্ষেত্রে দোষ দেওয়া যায় না। সরকারের বুঝতে হবে যে, জরুরি অবস্থায় মানুষ ফ্লাইট পছন্দ করে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।"
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি যোগ করেন, "যখন প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট বাতিল হয়, তখন তাঁকে হেলিকপ্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। কেন আমাদের, সাধারণ মানুষের জন্য একই ব্যবস্থা করা হয় না? আমাদেরও জরুরি অবস্থা থাকে, তাই না?"
ক্ষীরসাগর বলেন, "সরকারের এটি নিয়ে ভাবা উচিত। আর যদি তারা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে উপেক্ষা করে, তবে তাদের মনে রাখা উচিত যে আমরাও ভিআইপি, কারণ আমরা কর দিই।"
হুব্বালিতে পৌঁছাতে না পারায়, রিসেপশন অনুষ্ঠানে নবদম্পতির আসনেই কনের বাবা-মা বসে আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। একই সময়ে ভুবনেশ্বরে সাজগোজ করে বর-বউ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই জমকালো অনুষ্ঠানে যোগ দেন, অতিথিদের অভিবাদন জানিয়ে সশরীরে উপস্থিত না থাকার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী হন।












Click it and Unblock the Notifications