চলে গেলেন দেশের প্রথম মহিলা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ১০৩
চলে গেলেন দেশের প্রথম মহিলা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ১০৩
ভারতের সর্বপ্রথম মহিলা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ এসআই পদ্মাবতী মারা গেলেন কোভিড আক্রান্ত হয়ে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৩। দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসার পথিকৃৎ ডাঃ পদ্মাবতী ২৯শে অগাস্ট রাতে নয়া দিল্লির ন্যাশনাল হার্ট আর্ট ইনস্টিটিউটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জান যাচ্ছে।

১১ দিন আগেই করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি
প্রায় ১১ দিন আগে কোভিড আক্রান্ত হয়ে ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন ডাঃ পদ্মাবতী। এনএইচআইয়ের কর্ণধার ডঃ ওপি যাদব জানিয়েছেন, দুই ফুসফুসেই সংক্রমণ হয়েছিল তাঁর। তাঁর এই দেহাবসানে শোকের ছায়া গোটা চিকিৎসক মহলে। এদিন পশ্চিম দিল্লির পাঞ্জাবি বাঘ গোরস্থানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

পদ্ম পুরষ্কারও পেয়েছেন পদ্মাবতী
১৯৬৭ সালে পদ্ম ভূষণ পুরস্কারে ভূষিত হন এস আই পদ্মাবতী। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে পদ্ম বিভূষণ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয় তাঁকে। তাঁর জন্ম হয়েছিল মায়ানমারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জাপানের আক্রমণে বিধ্বস্ত মায়ানমার তখন পদ্মাবতীর পরিবার ভারতে চলে আসে বলে জান যায়। পরবর্তীতে ভারতের মাটিতে থেকেই দেশের প্রথম হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন তিনি।
(ছবি সৌ:ইউটিউব)

বিদেশ থেকেই উচ্চশিক্ষা
১৯১৭ সালে বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার)এ জন্মগ্রহণ করা পদ্মাবতী রেঙ্গুন মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্নাতক হওয়ার পর বিদেশ থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। ১৯৬৭ সালে মৌলানা আজাদ মেডিক্যাল কলেজের ডিরেক্টর- প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। এর পাশাপাশি আরউইন এবং জি বি পন্থ হাসপাতালের সঙ্গেও যুক্ত হন এই চিকিৎসক।

১৯৮১ সালে নিজের হাতে তৈরি করেন এনএইচআই
এদিকে ১৯৮১ সালে নিজের হাতেই এনএইচআই তৈরি করেন এই কিংবদন্তি চিকিত্সক। ২০১৫ সাল পর্যন্তও দিনে ১২ ঘন্টা ও সপ্তাহে ৫ দিন এনএইচআইয়ে ব্যস্ত থাকতেন ডঃ পদ্মাবতী। লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজে ১৯৫৪ সালে উত্তর ভারতের সর্বপ্রথম হৃদরোগ সম্পর্কিত গবেষণাগার স্থাপিত করেন ডঃ পদ্মাবতী। এহেন অবদানের কারণে তাঁকে 'গডমাদার অফ কার্ডিওলজি' বলে অভিহিত করা হয়।
(ছবি সৌ:ইউটিউব)












Click it and Unblock the Notifications