হাত-পা শিকলে বাঁধা, খেতেও পাননি কিছু! ৪০ ঘণ্টা সেনার বিমানে কেমন কেটেছে আমেরিকা থেকে বিতাড়িতদের?
প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পরে একের পর এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিবাসন নীতি নিয়ে নিত্যদিন সামনে আসছে একের পর এক ঘটনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোপে পড়েছেন ভারতীয় প্রবাসীরাও।
আমেরিকায় চলছে অনুপ্রবেশকারী হঠাও অভিযান। আর তারই অঙ্গ হিসাবে ফেরত পাঠানো হয়েছে বেশ কিছু ভারতীয়দের। ইতিমধ্যেই অমৃতসরে নেমেছে মার্কিন বায়ু সেনাবাহিনীর বিশেষ বিমান। আর সেই বিমানে করেই ফেরত পাঠানো হয়েছে ২০৫ জনকে।

তালিকা প্রস্তুত করে ১০৪ জন ভারতীয়কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ বসবাসকারী চিহ্নিত করে মার্কিন সেনাবাহিনীর সি-১৭ বিমানে তুলে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কিন্তু দেশে ফিরে আসার পর মুখ খুলেছেন আমেরিকা থেকে বিতাড়িত ভারতীয় নাগরিকরা।
অমৃতসরের শ্রী গুরুদাস রামদাসজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে মার্কিন বায়ুসেনার বিশেষ বিমান। সে দেশ থেকে ফেরত আসা ৩৩ জন হরিয়ানার বাসিন্দা, ৩০ জন পাঞ্জাবের, ৩ জন করে উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের ও চণ্ডীগড়ের দুজন বাসিন্দা রয়েছেন বলে খবর।
এদিকে, তাঁদের মধ্যে হরবিন্দর সিং নামে এক ব্যক্তি জানালেন ফ্লাইটে তাঁদের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা। বিশেষ বিমানে প্রায় ৪০ ঘন্টা হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছিল তাঁদের। হাতে হাতকড়া পরানো হয়েছিল, পা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল, এমনকি এভাবে কিছু খেতেও দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, ওই অবস্থাতেই টেনেহিঁচড়ে তাঁদের ওয়াশরুমে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল! ক্রুরা টয়লেটের দরজা খুলে রীতিমত ধাক্কা দিয়ে ভেতরে নিয়ে যেত বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরের তাহলি গ্রামের বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী হরবিন্দর সিং ১০৪ জন অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে একজন যাঁদের প্রথম খেপে আমেরিকা ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আমেরিকা থেকে ভারতের এই ৪০ ঘন্টার যাত্রাপথকে নরকের চেয়েও খারাপ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করে হারবিন্দর বলেন যে তারা ৪০ ঘন্টা ধরে ঠিকমতো খেতেও পারেননি। এরই মধ্যে দয়াবশত এক ক্রু মেম্বার শুধু কয়েক টুকরো ফল খেতে দেন তাঁদের। দুঃস্বপ্নময় এই যাত্রা শুধু শারীরিকভাবে যন্ত্রণাদায়কই ছিল না, মানসিকভাবেও অত্যন্ত ক্লান্তিকর ছিল।
উল্লেখ্য, দুধের ব্যবসায়ী হরবিন্দর সিং তাঁর স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে ভালো ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার জন্য ২০২৪ সালের জুন মাসে এক এজেন্সির মাধ্যমে আমেরিকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। হঠাৎ করেই, এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় ৪২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে হারবিন্দরকে ১৫ দিনের মধ্যে বৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন।
আর সেই মতো খরচ জোটাতে পরিবারটি তাদের জমি বন্ধক রেখে বেসরকারি ঋণদাতাদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নেয়। কিন্তু বিগত প্রায় ৮ মাস ধরে প্রতিশ্রুতি মতো আমেরিকায় কোন পরিষেবা প্রদান করেনি ওই এজেন্সি। এমনটাই অভিযোগ করছেন হরবিন্দরের স্ত্রী কুলজিন্দর। জানা গিয়েছে ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েতে ট্রাভেল এজেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications