'কবচ' সুরক্ষিত দেশের মাত্র ১৫০০ কিলোমিটার রেললাইন, ৬৯,০০০ কিলোমিটার রেলপথ এখনও অসুরক্ষিত
কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনার পরে রেলের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ট্রেন দুর্ঘটনা আটকাতে কবস সিস্টেম বসানোর কথা ঘোষণা করেছিল ভারতীয় রেল। কিন্তু গত ১০ বছরে মাত্র ১৫০০ কিলোমিটার পথেই বসানো গিয়েছে এই প্রযুক্ত। বাকি ৬৯,০০০ কিলোমিটার রেল পথে এখনও এই সিস্টেম বসানো হয়নি।
গোটা দেশে যে গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ গুলি রয়েছে তারমধ্যে পড়ে পূর্ব এবং উত্তরপূর্ব রেল। কিন্তু পূর্ব বা দক্ষিণপূর্ব রেলপথে সেই পরিষেবা এখনও বসিয়ে উঠতে পারেনি ভারতীয় রেল। কেবল মাত্র দক্ষিণ-মধ্য রেলে ১৫০০ কিলোমিটার পথে এই কবচ সুরক্ষা বসানো হয়েছে। দেশের মাত্র ২৫টি রেলস্টেশনে এই পরিষেবা রয়েছে। রেলবোর্ডের চেয়ারপার্সন গতকাল সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানিয়েছেন।

দক্ষিণ-মধ্য জোনের ওয়াডি, বিক্রমাবাদ, সনৎনগর, বিক্রমাবাদ, বিহার রেল জোনের মধ্যে এই কবচ সুরক্ষা রয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষের মধ্যে ৩২২ কিলোমিটার রেলপথে বসানো হয়েছিল এই সুরক্ষা ব্যবস্থা। যার আওতায় আসে ৩২টি স্টেশন। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে আকরও ৮৫৯ কিলোমিটার রেল পথে কবচ বসানো হয়েছে। যার আওতায় আসে ৭৭টি স্টেশন। অর্থাৎ মোট ১৪৪৫ কিলোমিটার পথে এই পরিষেবা কার্যকর রয়েছে।
তবে দিল্লি-হাওড়া এবং মুম্বই-দিল্লি রেলপথে এখনও এই পরিষেবা বসানো হয়নি। অথচ এই রুট ভারতীয় রেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট। সবচেেয় বেশি হাইস্পিড ট্রেন চলে এই রুটে। রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ার পার্সন জানিয়েছেন এই রুটগুলিতে কবচ বসানোর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা হবে। অথচ গত ১০ বছরে রেকর্ড হারে বেড়েছে রেলের দুর্ঘটনা। বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো একাধিক গ্রুত গতির ট্রেন পরিষেবা চালু করা হলেও সুরক্ষা ব্যবস্থা কেন পর্যাপ্ত করা হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গতবছর ওড়িশার বালেশ্বরে করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার বলি হয়েছিলেন শ খানেক যাত্রী। গতকাল অর্থাৎ সোমবার শিলিগুড়ির কাছে রাঙাপাণি স্টেশনে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে দুর্ঘটনায় বেঘোরে প্রাণ হরালেন ১০ জন যাত্রী। আহত হয়েছেন ৬০ জনের মতো। রেলের তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে সিগন্যাল মানেননি মালগাড়ির চালক সেকারণেই এই দুর্ঘটনা।












Click it and Unblock the Notifications