লক্ষ্য নজরদারি বাড়ানো, ভারতের বিতর্কিত চিন সীমান্তে ২,০০০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ
লক্ষ্য নজরদারি বাড়ানো, ভারতের বিতর্কিত চিন সীমান্তে ২,০০০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ
গত পাঁচ বছরে ইন্দো-চিন বিতর্কিত সীমানা বরাবর ভারত প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করেছে। এই নির্মাণ সীমান্তে উত্তেজনার সময় সেনা মজুত করতে সাহায্য করবে ভারতকে। ইন্দো-চিন সীমান্ত ছাড়াও বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, মায়ানমারের সীমান্ত বরাবর রাস্তা তৈরি করেছে ভারত।

ডোকলাম সীমান্তে উত্তেজনা থেকেই সিদ্ধান্ক
পাঁচ বছর আগে পশ্চিম ভুটানের কাছে ডোকলামে বিতর্কিক সীমানা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। সেই সময় ভারত ও চিনের সেনারা মুখোমুখি ৭২ দিন অবস্থান করেন। সীমান্তে উত্তেজনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। যে কোনও মুহূর্তে সংঘর্ষের সম্ভাবনা দেখা দেয়। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই ধরনের কোনও পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু তারপরেই ভারত সরকার সীমান্ত বরাবর সড়ক নির্মাণে জোর দেয়। যাতে যে কোনও পরিবেশে সীমান্তে ভারতীয় সেনা মজুত করা যেতে পারে। গত পাঁচ বছরে ভারত সীমান্ত বরাবর ৩,৫৯৫.০৬ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করেছে। ভারত চিন, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সীমান্তে রাস্তা তৈরি করে। তার মধ্যে চিন সীমান্তের কাছেই ২,০৮৮.৫৭ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করেছে।

রাজ্যসভায় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
রাজ্যসভায় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী অজয় ভাট জানিয়েছেন, পাঁচ বছরে সীমান্ত বরাবর ৩,৫৯৫.০৬ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা হয়। তারমধ্যে ইন্দো-চিন সীমান্তের কাছে ২,০৮৮. ৫৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এই সড়ক পথ এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যার ফলে যে কোনও আবহাওয়ায় উত্তেজনার সময় সীমান্তে পৌঁছতে পারবেন সেনারা। ভারত পাক সীমান্ত বরাবর ১,৩৩৬.০৯ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করেছে। তারমধ্যে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সীমান্ত রয়েছে। পাক সীমান্ত বরাবর রাস্তা তৈরি করতে ৪,২৪২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন। ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ১৯.২৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করেছে। সীমান্তে সড়ক নির্মানের মোট খরচের ৭৬ শতাংশ ভারত ও চিনের বিতর্কিত সীমানা বরাবর রাস্তা নির্মানে খরচ হয়েছে। এই সড়ক নির্মাণে ১৫,৪৭৭.৪১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

ইন্দো-চিন সীমান্তে উত্তেজনার জের
২০১৭ সালে ডোকলামে ভারত ও চিনের সেনারা মুখোমুখি অবস্থান করে। সেই সময় সীমান্ত জুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। সড়ক পরিষেবা খারাপ হওয়ার কারণে সীমান্তে সেনা পাঠাতে বিপাকে পড়ে ভারত। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই সীমান্ত বরাবর সড়ক নির্মাণের ওপর কেন্দ্র সরকার জোর দেয়। পূর্ব লাদাখে সীমান্ত বরাবর সড়ক পথ নির্মাণকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা তৈরি হয়। চিন সড়ক পথ প্রকল্পের বিরোধিতা করে। পাল্টা সীমান্তে অবৈধ নির্মাণ শুরু করে চিন। এরপরেই সীমান্তে সেনা মজুত করতে শুরু করে চিন। দুই দেশের সেনারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনায় ২০ জন ভারতীয় সেনা শহিদ হন। ঘটনার দুই বছর কেটে গেলেও, উত্তেজনা কিছুটা স্তিমিত হলেও সমাধান সূত্র পাওয়া যায়নি।












Click it and Unblock the Notifications