আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারের মূল্য হ্রাসের প্রভাব! ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা কোথায় দাঁড়িয়ে, কী বলছেন RBI প্রধান
আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারের ব্যাপক মূল্যহ্রাসের জের পড়েছে ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায়। এমনটাই অভিযোগ ছিল বিরোধীদের। এব্যাপারে ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা নিয়ে অবস্থান জানিয়েছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর।
ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা স্থিতিস্থাপক এবং শক্তিশালী। এর মধ্যে পড়ছে নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল সংস্থাগুলিও। এমনটাই মন্তব্য করছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শশীকান্ত দাস। আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারের দামে ওঠা-নামা যে ঋণদাতারা যে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন, তার প্রেক্ষিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরের এই মন্তব্য যথেষ্টাই তাৎপর্যপূর্ণ।

রেপোরেট বৃদ্ধির ঘোষণা
এদিন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের আর্থিক সুপারিশগুলি উল্লেখ করার পাশাপাশি রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধির কথা জানান। ডেপুটি গভর্নর এমকে জৈন বলেন, দেশীয় ব্যাঙ্কগুলির এক্সপোজার মার্কেট ক্যাপের ওপরে নয়, তাদের অন্তর্নিহিত সম্পদ, অপারেটিং ক্যাশ ফ্লোর বিরুদ্ধে ছিল।

আদানি গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেননি
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস এদিন আদানি গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ না করে বলেছেন, শক্তি, আকার, স্থিতিস্থাপকতার নিরিখে ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা অনেক বড় এবং শক্তিশালী। তিনি আরও বলেছেন, গত কয়েক বছরে ভারতের ব্যাঙ্কগুলির মূল্যায়ন পদ্ধতির উন্নতি হয়েছে। নির্দেশিকা লাগু করা, পরীক্ষা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কমিটি গঠন-সহ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গ্রহণ করা পদক্ষেপগুলির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
এদিন আরবিআই প্রধানকে রেটিং এজেন্সিগুলির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারের এক্সপোজার সম্পর্কে দেশীয় ব্যাঙ্কগুলিকে আরবিআই কোনও গাইড করবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি এব্যাপারে আরবিআই-এর আগেকার কথাই তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, আরবিআই ব্যাঙ্কিং সেক্টরের ওপরে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নজরদারি বজায় রাখে।

বিরোধীরা সোচ্চার
আদানি গোষ্ঠীর অন্তত সাতটি কোম্পানির শেয়ারের দামে ব্যাপক হ্রাস পাওয়ার কারণে এলআইসি এবং এসবিআই-এর ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। কেননা দুই সংস্থা থেকে আদানি গোষ্ঠী হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। গতমাসের শেষের দিকে মার্কিন সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলে, তাদের বিভিন্ন শেয়ারের দাম ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছে। এর পিছনে জালিয়াতির কথাও বলেছিল হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ। এরপর গতমাসের শেষে থেকে এই মাসের শুরুর দিক পর্যন্ত আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থায় শেয়ারের মূল্য প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার পড়ে যায়। এর জেরে বিশ্বের ধনীদের তালিকায় অনেক নিচে নেমে যান গৌতম আদানি। বিষয়টি নিয়ে দেশে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিরোধীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। রাহুল গান্ধী বিষয়টি নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করেন। যার জবাব বুধবার সংসদে দাঁড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এটাও উল্লেখ করা প্রয়োজন, গত কয়েকদিন ধরে এইসব শেয়ারের দামে ফের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আদানি গোষ্ঠীর অবস্থান
যদিও হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের পাল্টা আদানি গোষ্ঠী ৪১৩ পাতার বিবৃতি দিয়ে বিষয়টিকে পরিকল্পনা মাফিক আক্রমণ বলে বর্ণনা করে।












Click it and Unblock the Notifications