নতুন এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের, বিরল নক্ষত্রটি সূর্যের চেয়ে গরম
নতুন এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের, বিরল নক্ষত্রটি সূর্যের চেয়ে গরম
ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মুকুটে আরও একটি পালক যুক্ত হল। সম্প্রতি দুটি নতুন আবিষ্কার করেছেন ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। একটি এক্সোপ্ল্যানেট, যার আকৃতি বৃহস্পতির প্রায় দেড়গুণ। আর একটি বিরল শ্রেণির রেডিও স্টার, যা সূর্যের চেয়ে বেশি গরম। এই দুই আবিষ্কার নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞান জগতে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।

বৃহস্পতির ১.৪ গুণ আকারের এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার
সম্প্রতি আহমেদাবাদের ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি বা পিআরএল-এর একটি দল প্রথম আবিষ্কারটি করে। এই দলটি বৃহস্পতির ১.৪ গুণ আকারের একটি এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করেছে। এটি একটি পুরনো নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে, যা আমাদের সূর্যের ১.৫ গুণ বেশি এবং ৭২৫ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।

আবিষ্কৃত নতুন এক্সোপ্ল্যানেটের কী নাম দেওয়া হয়েছে
আবিষ্কৃত ওই নতুন এক্সোপ্ল্যানেটের নাম দেওয়া হয়েছে টিওআই১৭৮৯বি। অধ্যাপক অভিজিৎ চক্রবর্তী এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন দল অ্যাডভান্সড রেডিয়াল-বেগ আবু-স্কাই সার্চ, অপটিক্যাল ফাইবার-ফেড স্পেকট্রোগ্রাফ ব্যবহার করে আবিষ্কার করেছিলেন ওই এক্সোপ্ল্যানেট। ভারতের এই ধরনের আবিষ্কার প্রথম।

এক্সোপ্ল্যানেটের ভর বৃহস্পতির ৭০ শতাংশ
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এক্সোপ্ল্যানেটের ভর বৃহস্পতির ৭০ শতাংশ। এবং এর আকার বৃহস্পতির চেয়ে প্রায় ১.৪ গুণ বেশি। গবেষকরা প্যারাস ব্যবহার করে আবিষ্কার করেছেন, যা একটি এক্সোপ্ল্যানেটের ভর পরিমাপ করতে সক্ষম। পরিমাপগুলি ২০২০-র ডিসেম্বর থেকে ২০২১-এর মার্চের মধ্যে নেওয়া হয়েছিল৷

সূর্য এবং বুধের মধ্যে দূরত্বের প্রায় এক-দশমাংশ
ইসরো জানিয়েছে, ২০২১-এর এপ্রিলে এটি জার্মানির টিসিইএস স্পেকট্রোগ্রাফ থেকে অতিরিক্ত ফলো-আপ রিডিং এবং মাউন্ট আবুতে পিআরএল-এর ৪৩ সেমি টেলিস্কোপ থেকে স্বাধীন ফটোমেট্রিক পর্যবেক্ষণ করে। টিওআই১৭৮৯বি তার সূর্যকে মাত্র ৩.২ দিনে প্রদক্ষিণ করে। ওই নক্ষত্র থেকে ০.০৫ আলোকবর্ষ দূরত্বে রাখে। যা সূর্য এবং বুধের মধ্যে দূরত্বের প্রায় এক-দশমাংশ।

নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি থাকার কারণে গ্রহটি তীব্র উত্তপ্ত
এখন পর্যন্ত জানা অসংখ্য এক্সোপ্ল্যানেটের মধ্যে দশটিরও কম এই ধরনের ক্লোজ-ইন সিস্টেম রয়েছে। ওই এক্সোপ্ল্যানেটের হোস্ট নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি থাকার কারণে গ্রহটি তীব্রভাবে উত্তপ্ত। যার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২০০০কে পর্যন্ত। এটির একটি বর্ধিত ব্যাসার্ধও রয়েছে, যার ঘনত্ব ০.৩১ গ্রাম। এটি সর্বনিম্ন ঘনত্বের গ্রহগুলির মধ্যে একটি।

বিরল শ্রেণির আটটি রেডিও স্টার আবিষ্কার
দ্বিতীয় আবিষ্কারটি গত সপ্তাহে পুনে-ভিত্তিক ন্যাশনাল সেন্টার ফর রেডিও অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের বা এনসিআরএ-র আরেকটি দল করেছে। বর্নালী দাসের নেতৃত্বে দলটি একটি বিরল শ্রেণির রেডিও স্টার আবিষ্কার করে। আটটি তারা তাঁরা খুঁজে পেয়েছিলেন, যা সূর্যের চেয়ে উষ্ণ। অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্র এবং অনেক শক্তিশালী ওই তারাগুলি।

বহিরাগত চুম্বকমণ্ডল নিয়ে গবেষণার নতুন উইন্ডো খুলেছে
এই আবিষ্কারের জন্য একটি জায়ান্ট মেট্রিওয়েভ রেডিও পালস ব্যবহার করা হয়েছিল। নতুন আবিষ্কার সম্পর্কে বলতে গিয়ে, এনসিআরএ বলেছে যে, জিএমআরটি প্রোগ্রামের সাফল্য এই শ্রেণির নক্ষত্র সম্পর্কে ধারণা সম্বন্ধে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এবং তাদের বহিরাগত চুম্বকমণ্ডল নিয়ে গবেষণার জন্য একটি নতুন উইন্ডো খুলে দিয়েছে।

১৫টি এমআরপির মধ্যে ১১টি পুনেতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার
মজার বিষয় হল, মহাকাশে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১৫টি এমআরপি শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১টি পুনেতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছিলেন। উপরন্তু, এই বছর ১১টি তারার মধ্যে আটটি আবিষ্কৃত হয়েছে। ইউজিএমআরটি গবেষণার সাফল্য থেকে বোঝা যায় যে, এমআরপি সত্যিই বিরল নাও হতে পারে, তবে শনাক্ত করা কঠিন। কারণ রেডিও স্পন্দন শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়ে দৃশ্যমান হয় এবং সাধারণত কম রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিতে লক্ষণীয়।












Click it and Unblock the Notifications