লাদাখে চিনের চোখরাঙানি বন্ধে নজরদারি ভারতের! এলএসি ইস্যুতে বেজিংকে কড়া বার্তা দিল্লির
গত ৩০ জুনের সামরিক বৈঠকের শর্ত মেনে গালওয়ান উপত্যকার ১৪ নম্বর পেট্রোলিং পয়েন্ট, গোগরা ও হট স্প্রিং এলাকা থেকে ১ কিলোমিটারেরও বেশি পিছিয়েছে ভারতীয় সেনা। তবে এরই মধ্যে ভারত কড়া বার্তা দিয়ে বেজিংকে স্পষ্ট জানিয়ে দিল যে লাদাখের আসেপাসের এলাকা থেকে পূর্ণাঙঅগ সেনা প্রত্যাহার করতে হবে বেজিংকে।

১৫ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক
লাদাখ ইস্যুতে চতুর্থ দফায় ১৫ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকের পর কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হল? প্রশ্ন উঠেছিল বিভিন্ন মহলে। সেই বৈঠক নিয়ে এবার মুখ খুলেছে চিনের বিদেশমন্ত্রক। চিনের তরফে এবিষয়ে বলা হয়, 'দুই দেশ লাদাখে শান্তির দিকে এগোচ্ছে। তবে চিন আশা করবে ভারত চিনের সঙ্গে মিলে এই কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।' এই মন্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। আর চিনের এই বক্তব্যের পরই ভারত পাল্টা কড়া বার্তা দেয়।

প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল ভারত
১৫ জুন গালওয়ানে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল ভারত চিন। ঘটনার পরেই ভারতের তরফে জানানো হয়েছিল, ২০ জন সেনা কর্মী শহিদ হয়েছেন। এরপর থেকেই উত্তপ্ত থেকে সেখানকার পরিস্থিতি যুদ্ধের দিকে এগোতে থাকে লাদাখে। এই আবহেই মঙ্গলবার দুই দেশের সেনার তরফে চতুর্থ দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ ঘণ্টা চলে সেই বৈঠক।

শান্ত হতে চলেছে লাদাখ?
লাদাখ নিয়ে ভারত-চিন বিবাদ কি তবে এখনকার মতো শান্ত হতে চলেছে? এমনই ইঙ্গিত মিলল, যখন গালওয়ানের পর লাদাখের আরও তিনটি জায়গা থেকে চুক্তিমতো সেনা প্রত্যাহার শুরু করল চিন। জানা গিয়েছে এলএসি-র হট স্প্রিং এলাকা থেকে পিছু হঠল লালফৌজ। একইভাবে ভারতীয় সেনাও পিছু হঠেছে। তবে প্যাংগংয়ে এখনও প্রচুর সেনা মোতায়েন রেখেছে চিন।

চতুর্থ দফার বৈঠক
এই আবহেই চতুর্থবার সেনা স্তরের বৈঠকে বসে ভারত ও চিন। এই বৈঠকের মূল অ্যাজেন্ডা ছিল ফিঙ্গার এলাকা ও ডেপস্যাং সমতল ভূমি। এই বৈঠকটি মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শুরু হয় ও বুধবার ভোর ২টোর পর গিয়ে তা শেষ হয় বলে জানা গিয়েছে। এদিকে এই বৈঠক চলার আবহেই শেষ পর্যায়ে লাদাখ সীমান্তে ফিঙ্গার এলাকা থেকে সেনা সরানো শুরু করেছে চিন। সেখানে অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে সেনা বল। ভারতও সেখানে সেনার সংখ্যা কমিয়েছে। গত ১৫ জুলাই এই এলাকাতেই ভারতীয় সেনার সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ বাঁধে চিনা বাহিনীর।

তীক্ষ্ণ নজর রাখছে ভারত
তিন দফায় সেনা সরানোর প্রক্রিয়ার উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে ভারত। কোনও ভাবে যদি চিন সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে তাহলে ভারতও থমকে যাবে। সেনা প্রত্যাহারের চুক্তি যাতে কোনও ভাবে লঙ্ঘন না করা হয় সেদিকে নজর রাখছে ভারতীয় সেনা। এর জন্য দিনের পাশাপাশি রাতেও বায়ুসেনার বিমান ও হেলিকপ্টর টহল দিচ্ছে লাদাখের সীমান্ত জুড়ে।












Click it and Unblock the Notifications