চিনের সঙ্গে সংঘাতের আবহে লাদাখে কার্বাইনের অভাব, জরুরি ভিত্তিতে বন্দুকের চাহিদা মিটবে কীভাবে?
এপ্রিল মাসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়ার সঙ্গে মিলে ভারতের একে-২০৩ কার্বাইন বন্দুক তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। তখনও করোনার প্রভাব জাকিয়ে বসেনি দেশে। আত্মনির্ভর ভারতের রূপরেখা তখনও তৈরি হচ্ছে। তবে সেই সময় বন্দুকগুলি তৈরি হওয়ার কথা ছিল কাশ্মীরের কথা মাথায় রেখে। তবে গত কয়েক মাসে পরিস্থিতি বদলেছে। কাশ্মীরের থেকে এখন লাদাখে বেশি প্রয়োজন এই সমরাস্ত্রের।

কাশ্মীরের জওয়ানদের জন্যে আসার কথা ছিল কার্বাইনের
এপ্রিলে ঘোষণা হয়েছিল যে জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি নিধনে একে-২০৩-এর আধুনিকতম সংস্করণ কারবাইন রোল আনতে চলছে ভারতীয় সেনা। উপত্যকায় যেসব জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়, তাঁদের জন্যই অ্যাসল্ট রাইফেলের এই আধুনিকতম সংস্করণ। আমেথির করওয়ার অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে এই রাইফেলের আধুনিক সংস্করণ তৈরি হবে। তবে এখন সেনার দাবি লাদাখে কার্বাইনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

কী এই কার্বাইন?
কী এই কার্বাইন? এগুলি রাইফেলের ক্ষুদ্র সংস্করণ। অর্থাৎ রাইফেলের ব্যারেল যতটা সম্ভব ছোটো হবে। পাশাপাশি বাঁটও থাকে না। যার ফলে খুব সহজেই রাইফেলটি পোশাকের মধ্যে লুকিয়ে রাখা যায়। সম্মুখ সমরে এই বন্দুক খুবই কাজে লাগে। এবং লাদাখে চিনা সেনার সঙ্গে সংঘআতের আবহে ভারতীয় সেনা বিশেষ প্রয়োজন অনুভব করছে এই বন্দুকের।

ভারতেই তৈরি হবে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার কার্বাইন
জানা গিয়েছে, আগামী কয়েক বছরে ভারতেই তৈরি হবে প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার কার্বাইন বন্দুক। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনার এখনই এই বন্দুক চাই। সূত্রের খবর, সেনার এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে প্রচুর কার্বাইন চাই। এই চাহিদার সিংহভাগই লাদাখের জন্য। তবে ২০১৮ সাল থেকে এই বন্ধুক পাওয়ার প্রক্রিয়া জারি রয়েছে।

২০১৮ সাল থেকে আটকে থাকা চুক্তি অবশেষে চূড়ান্ত
এদিকে ২০১৮ সাল থেকে আটকে থাকা কার্বাইন কেনার চুক্তি অবশেষে চূড়ান্ত হয়। আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে আমিরশাহীর সংস্থা কারাকাল ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে যে দেশের মাটিতেই কার্বাইন কার-৮১৬ তৈরি করবে তারা। মোট ৯৩ হাজার ৮৯৫টি কার্বাই তৈরি হবে দেশে। তবে সেটাতেও প্রায় দুই থেকে তিন বছর লাগবে। কিন্তু বর্তমানে সেনার হাতে বন্দুক আসবে কোথা থেকে?

লাদাখে এই বিশেষ বন্দুকের অভাব
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সংস্থার কাছ থেকে কার্বাইন কেনার কথা হয়েছিল অনেক আগেই। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেই চুক্তি আটকে ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে যে ভারতের উপর যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে এসেছে তার জন্যে পর্যাপ্ত সমর সরঞ্জাম তৈরি থাকলেও এই বিশেষ বন্দুকের অভাব হঠাৎ করেই লক্ষ্য করা গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications