তিন দিনে ভারতীয় বিমান বাহিনীতে অগ্নিপথ প্রকল্পের অধীনে জমা ৫৬,৯৬০টি আবেদন
তিন দিনে ভারতীয় বিমান বাহিনীতে অগ্নিপথ প্রকল্পের অধীনে জমা ৫৬,৯৬০টি আবেদন
সেনাবাহিনীতে স্বল্পমেয়াদি নিয়োগ অগ্নিপথ প্রকল্পের ঘোষণার পরেই একাধিক সমালোচনার মুখে পড়ে কেন্দ্র সরকার। বিক্ষোভ দেখান সেনাবাহিনীতে চাকরি প্রত্যাশী যুবকরা। তারমধ্যেই ভারতীয় বিমান বাহিনী রবিবার পর্যন্ত অগ্নিপথ নিয়োগ প্রকল্পের অধীনে ৫৬,৯৬০টি আবেদন পেয়েছে। শুক্রবার থেকে এই আবেদন গ্রহণ করা শুরু হয়েছে।

ভারতীয় বিমান বাহিনীর তরফে রবিবার টুইটে জানানো হয়, অগ্নিপথ প্রকল্পের অধীনে এখনও পর্যন্ত ৫৬,৯৬০টি আবেদন জমা পড়েছে। শুক্রবার থেকে বিমান বাহিনী আবেদন নিতে শুরু করেছে। ৫ জুলাই পর্যন্ত অগ্নিপথ প্রকল্পের অধীনে বিমান বাহিনীতে আবেদন করা যাবে। অগ্নিপথ প্রকল্পের অধীনে ১৭ থেকে ২৩ বছরের যুবকরা আবেদন করতে পারবেন। অগ্নিপথ প্রকল্পের অধীনে মেয়েরাও আবেদন করতে পারবেন বলে কেন্দ্র সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।
১৪ জুন কেন্দ্র সরকার সেনাবাহিনীতে 'অগ্নিপথ' প্রকল্পের ঘোষণা করে। ১৭ থেকে ২১ বছরের তরুণরা 'অগ্নিপথ' প্রকল্পের অধীনে সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী এই তিন ক্ষেত্রেই আবেদন করা যাবে। 'অগ্নিপথ'-এর অধীনে নিয়োগের মেয়াদ হবে চার বছর। 'অগ্নিপথ' প্রকল্পের অধীনে নিয়োগ সেনা সদস্যদের ২৫ শতাংশ ভবিষ্যতে নিয়মিত পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এরপর কেন্দ্র সরকার ১৬ জুন বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ২১ বছর বাড়িয়ে ২৩ বছর করে। এছাড়াও মেয়াদ সম্পূর্ণের পর তাঁদের আধা সামরক বাহিনী ও নিরাপত্তার বিভিন্ন বিভাগের চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে তাঁদের নিয়োগ করা হতে পারে বলে কেন্দ্র সরকারের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো তাঁদের পুলিশে চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
সেনাবাহিনী চাকরি প্রত্যাশীদের একাংশ 'অগ্নিপথ' প্রকল্পের বিরোধিতা করেন। তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে রাস্তায় নামেন। বিক্ষোভকারীরা মূলত চার বছরের মেয়াদের বিরোধিতা করেন। বিরোধীরাও সরকারের 'অগ্নিপথ' প্রকল্পের তুমুল সমালোচনা করেন। তাঁরাও দেশের সেনাবাহিনীতে চার বছরের মেয়াদের চাকরির সমালোচনা করেন। পাশাপাশি তাঁরা অভিযোগ করেন, মেয়াদ শেষের পর ওই যুবকরা কোথায় যাবেন। নতুন করে চাকরি খুঁজতে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হবে।
'অগ্নিপথ'-এর বিরোধিতা করে বিক্ষোভ দেখান সেনাবাহিনী প্রত্যাশী যুবকদের একাংশ। ক্রমেই সেই বিক্ষোভ হিংসার আকার ধারণ করে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, মধ্যপ্রদেশ সহ দেশের একাধিক রাজ্যে বিক্ষোভ হিংসার আকার ধারণ করে। ট্রেনে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। পাশাপাশি রেললাইন অবরোধ করে। আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ভারতীয় রেলের সাতটি ট্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাতিল করে দেওয়া হয় বহু ট্রেন। দিক পরিবর্তন করা হয় অনেক ট্রেনের। বাস ভাঙচুর, রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে পাথর ছোড়া, পার্টি অফিস ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। তেলেঙ্গানায় পুলিশের গুলিতে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়।












Click it and Unblock the Notifications