চিনকে রুখতে লাদাখে পুরোপুরি তৈরি ভারত, বায়ুসেনার শক্তি প্রদর্শনে বার্তা পৌঁছাল বেজিংয়ে
চিন পিছু হটলেও সীমান্তে সক্রিয় রয়েছে ভারতীয় সেনা৷ মঙ্গলবারের পর গতরাতে ভারত-চিন সীমান্তে রাত্রিকালীন টহল দিতে দেখা গেল ভারতীয় বায়ুসেনার অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, চিনুক হেলিকপ্টার ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানকে৷ প্রসঙ্গত, ১৫ জুন ভারত ও চিনা সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল রাতের অন্ধকারেই। তাই আগাম সতর্কতা হিসাবেই চিনের উপর নজরদারি চালাতে ভারতীয় বায়ুসেনার এই পদক্ষেপ।

গালওয়ানের পরিস্থিতি
১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের পর সব থেকে খারাপ পরিস্থিতি উপনীত হয়েছে লাদাখে। এই আবহে চিনা সেনা পিছু হটার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছালেও সেই কাজে ঢিলেমি দিচ্ছে বলে খবর। আর এই পরিস্থিতিতে এক ইঞ্চিও জমি চিনকে না ছাড়তে বিশেষ ভাবে তৈরি হচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনা। দুর্গম পাহারে আকাশ থেকে চিনা গতিবিধির উপর নজর রাখতে তৈরি হচ্ছে নতুন ব্লুপ্রিন্ট।

চিনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখতে তৎপর ভারত
কোনও ভাবে যাতে চিন ধোকা দিয়ে গালওয়ানে ফের অনুপ্রবেশের চেষ্টা না করে তার জন্য ২৪ ঘণ্টা সজাগ রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। দিনের পাশাপাশি এখন তাই রাতেও আকাশে টহল দিচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনা। এর ফলে কোনও রকম চিনা গতিবিধি খুব সহজে এবং খুব দ্রুত নজরে আসবে ভারতের।

কোনও ঝুঁকি নেওয়া হবে না
উচ্চপর্যায়ে সেনাসূত্রে খবর, চিন বাহিনী প্রত্যাহার করলেও ভবিষ্যতে কোনও ঝুঁকি নেওয়া হবে না, তাই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সেনা মোতায়েন জারি থাকবে। পূর্ব লাদাখ সেক্টরে চরম ঠান্ডার জন্য হাজারটি তাঁবু ফেলার নির্দেশিকা আসতে চলেছে সেনার তরফে।

৩০ হাজারের বেশি অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন
এদিকে চিনা আগ্রাসন রুখতে ইতিমধ্যেই ৩০ হাজারের বেশি অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায়। লাদাখ সেক্টরে চরম ঠান্ডার কথা মাথায় রেখে এই বিশাল বাহিনীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশিকা জারি করতে চলেছে ভারতীয় সেনা। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সেনা মোতায়েন সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময়সীমা পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হবে বলে মনে করছেন সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা। তাই আবহাওয়ার কথা চিন্তা করে এখন থেকেই সেনা-জওয়ানদের জন্য এলএসি-তে তাঁবুর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।

চিনের উপর নজরদারি
চিন ইতিমধ্যেই তাদের বিশেষ শীতকালীন তাঁবুগুলিতে পিচিং শুরু করেছে। সিয়াচেন হিমবাহে একই ধরনের তাঁবু এবং কাঠামো রয়েছে এমন কয়েকটি পূর্ব লাদাখ সেক্টরেও ব্যবহার করছে ভারতীয সেনা। ভারত এবং ইউরোপ উভয় বাজারেই এ'জাতীয় তাঁবুগুলির খোঁজ করা হচ্ছে, কারণ প্রচন্ড শীত শুরুর আগেই ওই তাঁবু ফেলতে চায় সেনা।












Click it and Unblock the Notifications