করোনার উচ্চ ঝুঁকির কারণে কোভিড ভ্যাকসিনে জরুরি অনুমোদন দেবে ভারত
ভ্যাকসিনে জরুরি অনুমোদন দেবে ভারত
দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। অথচ এখনও পর্যন্ত কোনও ওষুধ বা ভ্যাকসিনের কোনও আশা দেখা যাচ্ছে না। অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল দেশে শুরু হলেও তা হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ রকম পরিস্থিতিতে দেশবাসীর উদ্বেগের কথা ভেবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন রবিবার জানিয়েছেন যে করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিনকে জরুরি অনুমোদন দেওয়া হবে, বিশেষ করে বয়স্ক ও কর্মস্থলে আসা–যাওয়া করা মানুষদের উচ্চ ঝুঁকির কথা ভেবে। দেশ ইতিমধ্যেই ৪৭.৫ লক্ষ সংক্রমণের গণ্ডিতে রয়েছে।

ভ্যাকসিনে জরুরি অনুমোদন
এই মাসে ভারতে প্রতিদিন ১০০০-এর বেশি মৃত্যু হয়েছে করোনা ভাইরাসে। মোট প্রাণহানির সংখ্যা ৭৮,৫৮৬। সংক্রমণের সংখ্যার তুলনায় ভারত আমেরিকার থেকে পেছনে থাকলেও অগাস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যায় আমেরিকা রয়েছে ভারতের পরে। দেশের এরকম সঙ্কটময় মুহূর্তে এসে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের জন্য ভারত জরুরি অনুমোদন দেবে। যদি এই বিষয়ে সকলের সম্মতি থাকে তবে আমরা এ বিষয়ে এগোতে পারি, বিশেষ করে দেশের প্রবীণ নাগরিক ও কর্মস্থলে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।'

ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞের দল গঠন
বর্ধন এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন,তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের সময়সীমা জরুরি অনুমোদনের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত করা যেতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়েছিলেন যে ক্নিলিক্যাল পরীক্ষায় কোনও দিকই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না এবং সরকার যখন তার সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে পারবে তখনই এই ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ভ্যাকসিন কবে উপলব্ধ হবে তার তারিখ এখনও স্থির করা হয়নি, তবে ট্রায়ালের ফলাফল জানা যাবে ২০২১ সালের প্রথমদিকে।
হর্ষ বর্ধন বলেন, ‘দুর্বল জনগোষ্ঠীর কাছে এই ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য ও ভ্যাকসিনের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞের দল গঠন করা হয়েছে।' রবিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী এও জানিয়েছেন যে একদিনে দেশে ৯৪,৩৭২ জন নতুন আক্রান্তের খবর এসেছে এবং মৃত্যু হয়েছে ১,১১৪ জনের।

উদ্ধব ঠাকরের আর্জি
অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রচেষ্টা শুরু করেছে, এপ্রিল-জুন মাসে ২৩.৯ শতাংশ অর্থনীতি সঙ্কোচন দেখা দিয়েছিল শুধুমাত্র এই করোনা ভাইরাসের জন্য। দেশের ধনী ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব হিসাবে পরিচিত পশ্চিমের রাজ্য মহারাষ্ট্রে সংক্রমণের সংখ্যা ১.০৩ মিলিয়ন। রবিবার এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে মহারাষ্ট্রবাসীর কাছে মাস্ক পরার, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার ও ভিড় এড়িয়ে চলার আর্জি জানান।

মহারাষ্ট্রে স্বাভাবিক হচ্ছে জীবন
মহারাষ্ট্রে এত সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার মধ্যেও বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ রাজ্যে নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে রেস্তোরাঁ খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। যদিও এখন অনেক ব্যবসাই বন্ধ রয়েছে। মহারাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে যে বেশ কিছু ব্যবসার মালিকের আবেদনের ভিত্তিতে রেস্তোরাঁ ও জিম খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications