মমতা প্রশাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে এককাট্টা প্রতিবাদ; দেখুন ওয়ানইন্ডিয়ায় গ্রাউন্ড রিপোর্ট
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে যে ভয়ঙ্কর ধর্ষণ এবং তারপরে খুনের ঘটনা ঘটেছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটির বিভিন্ন আঙ্গিক যেভাবে সামনে এসেছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানুষের রাগ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। এই ঘটনা শুধু যে চিকিৎসক সমাজে সাড়া ফেলেছে তা নয়, বরং সমাজের সর্বস্তরের নাগরিকেরা এই ঘটনায় প্রতিবাদে সরব হয়েছেন এবং ধিক্কার জানিয়েছেন, বিশেষত যেভাবে এই ঘটনায় প্রাথমিক পদক্ষেপ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং তার পুলিশ।
দেশজোড়া প্রতিবাদ; আঁচ করল ওয়ানইন্ডিয়া
এই ঘটনার পর সারা দেশে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে ওয়ানইন্ডিয়ার তরফ থেকে প্রতিক্রিয়া নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। সারা দেশেই চিকিৎসক সমাজ এই ঘটনায় সরাসরি প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন এবং ধিক্কার জানিয়েছেন। দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্রথমে কর্মবিরতি পালন করলেও পরে তা তুলে নিয়েছিলেন। তবে ফের একবার তাঁরা সারা দেশের অন্যান্য হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য একটাই, যতক্ষণ না সঠিক বিচার হচ্ছে, ততদিন তাঁরা প্রতিবাদী চিকিৎসকদের পাশেই থাকবেন।

বেঙ্গালুরুর চিকিৎসক অশ্বিনী এই ঘটনার পর মহিলা চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত। তিনি বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে যে ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে তাতে আমরা প্রত্যেকেই অত্যন্ত আতঙ্কিত। আমরা সুরক্ষা চাই এবং পশ্চিমবঙ্গের নির্যাতিতার সঙ্গে যে অপরাধ হয়েছে তার বিচার চাই। চিকিৎসক অশ্বিনীর এই কথা প্রতিধ্বনিত হয়েছে হাজারো মহিলাদের মধ্যে যাঁরা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন।
বেঙ্গালুরুর আর এক মহিলা চিকিৎসক শমা রাও মনে করছেন, চিকিৎসকদের কোনও নিরাপত্তা নেই, এটাই মূল সমস্যা। এমনকী এই ঘটনাতেও এখনও পর্যন্ত বিচারের ব্যবস্থা করা যায়নি। যাকে সামনে রেখে আমরা জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে নির্ভয় হয়ে ফেরত যেতে বলব। ফলে বিক্ষুব্ধ বিরক্ত চিকিৎসকরা দেশজুড়ে এই মেডিক্যাল সিস্টেমকেই কোথাও গিয়ে কাঠগড়ায় তুলছেন। যে ব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁদের নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, সেটাই পূরণ হচ্ছে না।
সুপ্রিম কোর্টের পদক্ষেপ; এক আশার আলো
সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে আরজিকর হাসপাতালের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টিকে গ্রহণ করেছে তা নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য। শীর্ষ আদালত এই মামলার শুনানিতে যেভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এফআইআর গ্রহণে দেরি করেছে এবং সার্বিকভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে তার কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, দেশজুড়ে চিকিৎসকদের সুরক্ষায় টাস্ক ফোর্স তৈরি করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। টাস্ক ফোর্স আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টের জমা দেবে এবং ফাইনাল রিপোর্ট দুই মাসের মধ্যে শীর্ষ আদালতে জমা দেবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের ভূমিকা; অবহেলার এক সার্বিক চিত্র
জনরোষ কোনও কারণ ছাড়া তৈরি হয় না। যেভাবে আরজি করের ঘটনায় একের পর এক পদক্ষেপ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন, তা সার্বিকভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছে। এফআইআর ফাইল করায় দেরি, ঘটনাটি ঘটার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা, এবং তারপরে যেভাবে হাসপাতালে হামলা হল, তাতে সার্বিকভাবে রাজ্য প্রশাসনের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
হায়দরাবাদের একজন নাগরিক ওয়ানইন্ডিয়াকে বললেন, মমতার সরকার কলকাতার ঘটনায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে এফআইআর করা হয়নি, এবং তদন্তের সময় বেশ কিছু অসঙ্গতি সামনে এসেছে। তাঁর কথায়, তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না, টাকা দিয়ে জীবন কেনা যায় না।
এই একই আবেগ প্রতিধ্বনিত হয়েছে অনেকের কথাতেই যারা বিশ্বাস করছেন তদন্তে ফাঁক থেকে গিয়েছে। এবং সত্যিকারের দোষীদের বিচারের অধীনে আনা এখনও সম্ভব হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী মোদী দ্রুত বিচার চেয়েছেন
স্বাধীনতা দিবসের দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কলকাতার ঘটনা উল্লেখ করে দোষীদের কড়া শাস্তির পক্ষে সওয়াল করেছেন। যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দোষীর শাস্তি সম্ভব হলে সারাদেশে বিচারের দাবিতে যে অসহিষ্ণুতা তৈরি হয়েছে তা কমানো সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য নিঃসন্দেহে সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের সরকারকে সমালোচনার মুখে ফেলেছে এবং তাঁরা যাতে বিষয়টিকে অত্যন্ত দ্রুত এবং দক্ষতার সঙ্গে মীমাংসা করে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারে, সেদিকে ইঙ্গিত করেছে। সাধারণ মানুষ রাজ্য সরকারের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ এবং যেভাবে বিচার না করে তাতে রাজনীতির রং লাগানো হয়েছে তা নিঃসন্দেহে ধিক্কারযোগ্য।
দেশ চাইছে; সার্বিকভাবে ঘটনার দায় নিক সরকার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে সারাদেশে প্রতিবাদ চলছে। কলকাতার হাসপাতালে খুন এবং ধর্ষণের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনের আরও একাধিক গলদের যেন প্রতীকী রূপ হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ এখন জবাব চাইছেন আর অন্যদিকে চিকিৎসক সমাজ চাইছে নিরাপত্তা এবং বিচার। এটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে কোনও একটি নির্দিষ্ট ঘটনা নয়, সার্বিকভাবে প্রশাসনিক ত্রুটির কারণেই আজকের দিনটি দেখতে হচ্ছে। আর সেজন্যই সারাদেশ একত্রিতভাবে নতুনের আবাহনের অপেক্ষায়, নতুন ভোরের অপেক্ষায় দিন গুনছে। আর যতদিন না দোষী শাস্তি পাচ্ছে ততদিন এই প্রতিবাদ-প্রতিরোধ চলবে।
নিচের ভিডিওটিতে দেখুন কীভাবে দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে চলেছে।












Click it and Unblock the Notifications