বায়ুদূষণে বিশ্বের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারত, ২০টির মধ্যে ১৩টি দূষিত শহরই ভারতে অবস্থিত, বলছে রিপোর্ট
সুইস বায়ু মানের প্রযুক্তি সংস্থা IQAir-এর ২০২৪ সালের বিশ্ব বায়ু মানের রিপোর্ট সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। যা রীতিমত ভয় ধরাচ্ছে ভারতের জন্য। কেননা রিপোর্ট অনুসারে, বিশ্বের শীর্ষ ২০টি দূষিত শহরের মধ্যে ১৩টি ভারতের। এই তালিকায় সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে আসামের বাইরনিহাট। এছাড়া, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানী শহর হিসেবে দিল্লি তার অবস্থান বজায় রেখেছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারতের বায়ুর মান কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে গড় PM2.5 মাত্রা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৫৪.৪ মাইক্রোগ্রাম, ২০২৪ সালে তা কমে ৫০.৬ মাইক্রোগ্রামে নেমেছে। তবে, এই সামান্য উন্নতির পরেও বিশ্বের ১০টি সবচেয়ে দূষিত শহরের মধ্যে ৬টি ভারতের।

আসামের বাইরনিহাট শহরে PM2.5 ও PM10-এর মাত্রা অত্যন্ত বেশি। শহরটিতে ৪১টি ভারী শিল্প কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে লোহা ও ইস্পাত কারখানা, সিমেন্ট কারখানা, ডিস্টিলারি ও পানীয় উৎপাদন ইউনিট রয়েছে। আর এই সবের জন্যে এখানে দূষণের মাত্রা সর্বদাই সর্বাধিক। তারমধ্যে এখানে কোনও দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নেই। কর্মকর্তারা শিলং থেকে ৭০ কিলোমিটার দূর থেকে এসে পরিদর্শন করেন, যা মনিটরিং করা প্রায় অসম্ভব।
ভারতের রাজধানী দিল্লি এখনও ভয়াবহ দূষণের সম্মুখীন। শহরের বার্ষিক PM2.5 মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ৯১.৬ মাইক্রোগ্রাম, যা ২০২৩ সালে ছিল ৯২.৭ মাইক্রোগ্রাম। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে দিল্লির জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
ভারতের সবচেয়ে দূষিত ১৩টি শহর
IQAir-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২০ দূষিত শহরের মধ্যে ভারতের ১৩টি শহর হল -
- বাইরনিহাট (আসাম)
- দিল্লি
- মুল্লানপুর (পাঞ্জাব)
- ফরিদাবাদ
- লোনি
- নয়াদিল্লি
- গুরুগ্রাম
- গঙ্গানগর
- গ্রেটার নয়ডা
- ভিওয়াড়ি
- মুজাফফরনগর
- হনুমানগড়
- নয়ডা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) রিপোর্ট অনুসারে, ভারতের ৩৫% শহরের বার্ষিক PM2.5 মাত্রা WHO-এর দেওয়া সীমার (৫ মাইক্রোগ্রাম) ১০ গুণ বেশি। এর ফলে ভারতের নাগরিকদের আয়ু গড়ে ৫.২ বছর কমে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী PM2.5 দূষণের কারণে ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। PM2.5 দূষণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে -
- অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল
- শিল্প কারখানার দূষণ
- কাঠ ও ফসলের বর্জ্য পোড়ানো
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক্তন প্রধান বিজ্ঞানী এবং ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের উপদেষ্টা সৌম্য স্বামীনাথন দূষণ কমানোর জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান প্রস্তাব করেছেন -
- জৈব জ্বালানির পরিবর্তে এলপিজি ব্যবহার
- নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের ভর্তুকি বৃদ্ধি
- শহরগুলোতে গণপরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ
- শিল্প ও নির্মাণ স্থানগুলিতে কঠোর পরিবেশগত আইন প্রয়োগ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শক্তিশালী দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। এখন দেখার বিষয়, ভারত সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এই সংকট মোকাবিলায়।












Click it and Unblock the Notifications