পাকিস্তানের জন্য বন্ধ হচ্ছে ভারতের আকাশ ও জলপথ, আরও কঠোর হচ্ছেন মোদী!
কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পরে প্রতিবেশী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একাধিক ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারত। বাতিল হয়েছে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি, দেশ ছেড়ে যেতে হয়েছে পাকিস্তানিদের। যারা যারা চিকিৎসা জন্যে এসেছিলেন ভারতে, তাঁদের ক্ষেত্রেও মন গলেনি ভারতের। তাঁদেরকেও চিকিৎসা পরিষেবা মাঝপথে ছেড়ে নিজেদের দেশে ফিরতে হয়েছে।
তবে এতকিছুর পরেও দেশ শান্ত হচ্ছে না। অন্তত যতদিন না এই হামলায় জড়িত জঙ্গিদের সম্পূর্ণ নিকেশ করতে পাচ্ছে কিংবা এই ঘটনার পিছনে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের কড়া হাতে শাস্তি দিতে পারছে; ততদিন ভারত শান্তি পাবে না। তাই এবার ফের একবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিতে যাচ্ছে ভারত।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নয়াদিল্লি এখন পাকিস্তানি বিমান সংস্থাগুলির জন্য ভারতের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে, পাকিস্তানি বিমান সংস্থাগুলিকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গন্তব্যে পৌঁছাতে চিন বা শ্রীলঙ্কার আকাশপথ ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হবে, যা তাদের ফ্লাইট সময় ও খরচ উভয়ই বাড়াবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও-এ এক জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার শাখা সংগঠন টিআরএফ এই হামলার দায় স্বীকার করায় ভারত কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে পাকিস্তানি বিমান সংস্থাগুলি নিজেদের ফ্লাইট রুট ভারতীয় আকাশসীমা এড়িয়ে চালাতে শুরু করেছে।
সরকারি সূত্র বলছে, কেবল আকাশসীমাই নয়, ভারতীয় বন্দরগুলিতে পাকিস্তানি জাহাজ নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে, যা বাণিজ্যিক স্তরেও চাপ সৃষ্টি করবে। অর্থাৎ আকাশপথ, জলপথ সবদিক থেকে পাকিস্তানকে চাপে রাখতে চায় ভারত।
গত সপ্তাহে, ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদতের অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জবাবে পাকিস্তান ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে চলে গিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে এবং বিমান চলাচল ও বাণিজ্যিক খাতে বড়সড় ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে। এতে খানিকটা হলেও চাপে ফেলা যাবে পাকিস্তানকে। এমনিতেই দেশটি আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে, তার মধ্যে বাণিজ্যে খরচ বাড়লে কিছুটা হলেও মুখ থুবড়ে পড়বে পাক শিবির।












Click it and Unblock the Notifications