ডোকলাম ইস্যুতে এক ঢিলে তিন পাখি, 'ঠাণ্ডা মাথায়' চিনকে ব্যাকফুটে ঠেলল ভারত
ডোকলাম ইস্যুতে এক ঢিলে দুই নয়, তিন পাখি মারল ভারত, ভারত চিনের এই ত্রিফলা আক্রমণের কাছে নতিস্বীকার করেনি।
ডোকলাম ইস্যুতে এক ঢিলে দুই নয়, তিন পাখি মারল ভারত। একদিকে যেমন চিনের রাস্তার তৈরি বন্ধ হল, অপরদিকে ভুটানের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখল ও চিনের সৃষ্টি করা চাপও সামলে নিল ভারত।

২০১৩ সালে ডেসপাং ও ২০১৪ সালে চুমার সেক্টরের সঙ্গে ডোকলাম ইস্যুর একটা মিল রয়েছে। তিনটি ক্ষেত্রেই মূল ভূখণ্ডের সীমানায় কারচুপির করার চেষ্টা করেছে চিন। কিন্তু ডোকলামের মত পরিস্থিতি আগে তৈরি হয়নি। বলা যেতে পারে, ভুটানের অধিকাররক্ষা ও নিজেদের নিরাপত্তাকে আরও মজবুত করতে ভারতও প্রথমবার কোনও তৃতীয় দেশের সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে। এমনকী দু-এক মাসের জন্য নয়, গোটা শীতের মরসুমেও যাতে ভারতীয় সেনা সেখানে মোতায়েন থাকতে পারে সেই ব্যবস্থাও করেছিল ভারত।
তবে কূটনৈতিক স্তরে বিষয়টি মোটেও সহজ ছিল না। পুরনো কৌশল মতই ত্রিফলা রণকৌশল নিয়েছিল চিন। তিনরকম ভাবে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল চিন। চিনা সংবাদমাধ্যম প্রতিদিনই যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিচ্ছিল, মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল ও আইনি লড়াইও চালাচ্ছিল চিন। গত কয়েক বছরে একই কায়দায় ফিলিপিন্সকেও চাপে ফেলেছিল চিন। কিন্তু ভারত চিনের এই ত্রিফলা আক্রমণের কাছে নতিস্বীকার করেনি। নানাভাবে সীমান্তে কোনও একটা 'ভুল' করার প্ররোচনা দিচ্ছিল চিন। যদিও ভারতীয় জওয়ানরা সেই প্ররোচনায় পা না দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় নিজের কাজ করে গিয়েছেন।
দুমাস ধরে এশিয়ার দুই বৃহত্তম শক্তি এভাবে একে অপরের মুখোমুখি অবস্থান করায় আশঙ্কায় ছিল মহাদেশের অন্যান্য দেশগুলিও। যদিও কোনওভাবে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হত তাহলে তা হাতের বাইরে চলে যেতে পারত বলে মত কূটনৈতিকমহলের। কিন্তু চিনা প্ররোচনায় পা না দেওয়ায় এটা বলা যেতেই পারে যে চিনের সাজানো 'চাইনিজ চেকার' খেলল না ভারত।












Click it and Unblock the Notifications