হাফিজ সঈদ-এর মুক্তিতে ক্ষিপ্ত ভারত, ইসলামাবাদকে শিক্ষা দিতে এবার এই অবস্থান
হাফিজ সঈদের মুক্তির সিদ্ধান্তে ভারত সরকার যে খুশি নয় তা হাবেভাবে-ই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল।এদেশে এলে পাকিস্তান প্রতিনিধি দলকে বেশকিছু বিধিনিষেধ মানতে হবে বলেও জানানো হয়েছে
হাফিজ সঈদ-কে গৃহবন্দী দশা থেকে মুক্তি দেওয়া নিয়ে পাকিস্তানের কড়া সমালোচনা করল ভারত। বৃহস্পতিবার বিদেশমন্ত্রকের মপখপাত্র রাভিশ কুমার সাফ জানিয়ে দেন, হাফিজ সঈদ একজন গ্লোবাল টোরোরিস্ট। রাষ্ট্রপুঞ্জ পর্যন্ত সেটা স্বীকার করে নিয়েছে। এরপরও ২৬/১১-র মূল চক্রীকে কীভাবে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।

গোটা বিষয়টিতে ভারত সরকার কোনওভাবেই খুশি নয় তা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে বিদেশমন্ত্রকের এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে। হাফিজ সঈদ-কে গৃহবন্দীদশা থেকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তেই পাকিস্তানের আসল চেহারাটা এখন বিশ্বের কাছে ফাঁস হয়ে গিয়েছে বলেও জানান বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র। সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াই-এ পাকিস্তান কতটা অমনোযোগী তা এই ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে বলেও জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক পাকিস্তান সরকারের দিকে আঙুল তুলে জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের মূল ধারাই যে জঙ্গি ও সন্ত্রাসে নিমজ্জিত তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল। আমেরিকার সঙ্গেও বিদেশমন্ত্রকের এই বিষয়ে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাভিশ কুমার। তিনি জানিয়েছেন, হাফিজ সঈদের মুক্তিতেও আমেরিকাও বিরক্ত এবং পুরো বিষয়টিতে ভারতের অবস্থানকেই তারা সমর্থন করেছে।
গত ১০ মাস ধরে ২৬/১১ হামলার মামলায় গৃহবন্দী হাফিজ সঈদ। তার মুক্তি পাকিস্তানের মাটিতে চলা সন্ত্রাস কারখানাগুলি মদত পাবে বলেও মনে করছে ভারত। এমনকী, হাফিজ সঈদের যে রকম প্রভাব তাতে পাক সরকারকেও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখেন। এতে ভারতের বুকে জঙ্গি নাশকতা বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। মৌলবাদীদের কাছে মাথা নত করে পাক সরকার হাফিজ সঈদ-এর বিরুদ্ধে থাকা যাবতীয় তথ্য-প্রমাণকে লুকিয়ে রেখেছে বলে ভারতের পক্ষে অভিযোগ করা হচ্ছে।
এদিকে, হাফিজ সঈদের মুক্তির পর বিদেশমন্ত্রক পাক প্রতিনিধি দলের উপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এই বিধিনিষেধে পরিস্কার বলা হয়েছে কোনও পাক প্রতিনিধি দল দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচির আওতায় এদেশে এলে তাঁকে নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানের বাইরে কোনও ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হবে না। বিশেষ করে কোনও স্থানে ভ্রমণ থেকে শুরু করে শপিং, কারোর সঙ্গে সাক্ষাৎ-এ কোনওভাবেই ভারত সরকারের অতিথি পরিষেবা পাবেন না পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা। ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে থাকা কোনও বিষয়ে আলোচনা বা সেমিনারের জন্য এদেশে এলে পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলক কাজ মিটিয়ে দেশে ফেরার বিমান ধরতে হবে বলে জানানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications