দিল্লির নয়া চাল, লাদাখে সেনার বৈঠকে রাজনৈতিক গন্ধ! চুশুলে উপস্থিত বিদেশমন্ত্রকের প্রতিনিধি
এদিন সকাল ১০টা বাজতেই শুরু হয় ভারত-চিন সেনার কমান্ডার পর্যায়ের ষষ্ট দফার বৈঠক। তবে এবারের বৈঠক একটু আলাদা হতে চলেছে। কারণ এই প্রথমবার সেনার বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন একজন জুগ্মসচিব স্তরের আমলা। প্রসঙ্গত, সেনার অনবরত চেষ্টা সত্ত্বেও লাদাখে শান্তি না ফেরায় দিল্লির তরফে এবার সেনা আলোচনায় কূটনৈতিক আঁচ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

চুশুলের বৈঠক নিয়ে ছক কষছিল দিল্লি
দিল্লির রাজনৈতিক মহলে চুশুলে অনুষ্ঠিত হওয়া আজকের বৈঠক নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলেছে। বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই এই বৈঠকের রূপরেখা তৈরি হচ্ছিল সাউথ ব্লকে। চিন এই বৈঠক বারংবার পিছোনোর বিষয়টিও ভারতকে কিঞ্চত অস্বস্তিতে ফেলেছিল। এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে লাদাখে আজকের এই বৈঠকে ভারতের তরফে উপস্থিত থাকবেন দিল্লির এখ প্রতিনিধি।

দিল্লি থেকে লাদাখে গিয়েছেন নবীন শ্রীবাস্তব
সূত্রের খবর এদিনের বৈঠকে ভারতের ১৪ কর্পস কমান্ডার ছাড়াও রয়েছেন দিল্লি থেকে লাদাখে যাওয়া নবীন শ্রীবাস্তব। নবীন ভারত সরকারের আমলা। বিদেশমন্ত্রকে পূর্ব এশিয়া বিষয়ক যুগ্মসচিব তিনি। আলোচনায় ভারতের দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিং। চিনের তরফে এই বৈঠকে উপস্থিত মেজর জেনারেল লিউ লিন।

ভারতরে পক্ষ থেকে যাঁরা উপস্থিত বৈঠকে
এদিকে সোমবারের বৈঠকে ভারতের দল বেশ ভারী। চুশুলে শুধু সেনা এবং দিল্লির কূটনৈতিক উপস্থিত নেই। রয়েছেন ইন্ডিয়া তিব্বত বর্ডার পুলিশের প্রধান। এছাড়া সেনার নর্দার্ন কমান্ডের দুই মেজর জেনারেল অভিজিৎ বাপাত এবং পরম শেখাওয়াত। দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সৈন্য উপস্থিতি যে লাদাখে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, তা বুঝিয়ে চিনকে পিছোতে বলাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

বৈঠক নিয়ে ভারত-চিন দ্বিমত
জানা গিয়েছে ২ অগাস্টের পর লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিং এবং পিএলএ-র মেজর জেনারেল লিউ লিন আর কোন বৈঠকেই মুখোমুখি হননি। প্রসঙ্গত, দুই দেশের তরফেই লাদাখে নিযুক্ত সেনাদের মধ্যে সব থেকে উচ্চ পদস্থ কর্তা এঁরাই। এদিকে এই বৈঠকের দিনক্ষণ হিসাবে প্রথমে চিন ১৭ সেপ্টেম্বর এবং পড়ে ২১ সেপ্টেম্বরের তারিখ প্রস্তাব দিলেও তা ভারতের পক্ষে মানা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষই আজকের দিন স্থির করে।

চিনের মনোভাব বোঝার চেষ্টায় দিল্লি
এদিকে গতবারের কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের পর মস্কোতে দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর সাক্ষাৎ একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। আর এরপর সেনার বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের এক আমলার উপস্থিতিও লক্ষ্য করার বিষয়। সেনার বৈঠকে এই রাজনৈতিক ফোড়নে পরিস্থিতি বদলাবে, এমনই আশা করছে দিল্লি। অপর দিকে চিনের মনোভাব বুঝতেও দিল্লি সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

লাদাখে দরকার ডিসএঙ্গেজমেন্ট
তবে বর্তমানে লাদাখ সীমান্তে যেটা সব থেকে বেশি প্রয়োজন, তা হল চিনা সেনা পিছু হটা। কারণ ডিসএঙ্গেজমেন্ট ছাড়া এই পরিস্থিতিকে ঠান্ডা করার আর কোনও উপায় নেই। এর আগে চিন পিছিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলেও প্যাংগংয়ে তারা সেনা বাড়াতে থাকে। এরপরই গত মাসের শেষের দিকে এবং চলতি মাসের শুরুর কয়েকদিন মিলিয়ে বেশ কয়েকবার ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে তারা, যার জেরে উত্তেজনা আরও কয়েক গুণ বাড়ে।












Click it and Unblock the Notifications