Earthquake: ভারতও ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এক লহমায়, কোন কোন শহর রয়েছে তালিকায়
দেশের সিসমিক জোনিং ম্যাপ অনুযায়ী মোট এলাকাকে চারটি সিসমিক জোনে ভাগ করা হয়েছে। সেই মোতাবেক জোন ৫-এ সবথেকে তীব্র ভূমিকম্প হয়। আর সবথেকে কম মাত্রার ভূমিকম্প হয় জোন ২-এ।
বিধ্বংসী ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এক লহমায় ভূমিকম্প প্রাণ কেড়ে নিয়েছে হাজার হাজার। এমন ভয়াবহ ভূমিকম্প ঘটতে পারে ভারতেও। ভারতের বিভিন্ন শহরকে নিমেষে ধ্বংস করে দিতে পারে ভূমিকম্প। ভারতের অনেক শহরই রয়েছে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের তালিকায়।

ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে ভারতেও
ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন শহরে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় যে তথ্য উঠে এসেছে, তা ভয় ধরিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। আর ভূমিকম্প এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা এখনও বিজ্ঞান আগাম কোনও আভাস দিতে পারেনি। ফলে সাবধান বা সতর্কতার কোনও জায়গা নেই ভূমিকম্পের হাত থেকে বাঁচতে।

ভারতের প্রায় ৫৯ শতাংশ ভূমি ভূমিকম্পপ্রবণ
তুরস্ক ও সিরিয়ার ভূমিকম্প ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তারপরই প্রশ্ন উঠে পড়েছে ভারত কতটা ভূমিকম্পপ্রবণ। সরকার রিপোর্টে জানা যায়, ভারতের প্রায় ৫৯ শতাংশ ভূমি ভূমিকম্পপ্রবণ। ৫৯ শতাংশ ভূমির মধ্যে পড়ছে আটটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বহু শহর। এই শহরগুলিকে জোন ৫-এ রাখা হয়েছে। এখানে সর্বেচ্চ তীব্রতার ভূমিকল্প হতে পারে।

মোতাবেক জোন ৫-এ সবথেকে তীব্র ভূমিকম্প
কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ২০২১-এর জুলাই মাসে লোকসভায় এই তথ্য তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দেশের সিসমিক জোনিং ম্যাপ অনুযায়ী মোট এলাকাকে চারটি সিসমিক জোনে ভাগ করা হয়েছে। সেই মোতাবেক জোন ৫-এ সবথেকে তীব্র ভূমিকম্প হয়। আর সবথেকে কম মাত্রার ভূমিকম্প হয় জোন ২-এ।

হিমালয় অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ
সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে জোন ৫-এ রয়েছে ১১ শতাংশ অঞ্চল। জোন ৪-এ ১৮ শতাংশ অঞ্চল, ৩০ শতাংশ রয়েছে জোন থ্রি-এ। বাকিগুলি পড়ে জোন ২-এ। ভারতের মধ্য হিমালয় অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। ১৯০৫ সালে, কাঙ্গারায় একটি বিশাল ভূমিকম্পে আঘাত হানে। সেই মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে হিমালয়ের পার্বত্য এলাকায়।

ভারতের ভয়াবহ তিন ভূমিকম্প
১৯৩৪ সালে, বিহার-নেপালে একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, যার মাত্রা ছিল ৮.২ মাত্রার। এই ভূমিকম্পে ১০ হাজারেরও বেশি লোক মারা গিয়েছিল। ১৯৯১ সালে উত্তরকাশীতে একটি ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ৮০০ জনেরও বেশি লোক মারা গিয়েছিল। ২০০৫ সালে সালে কাশ্মীরে ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্পের ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

২০১৬ সালের একর গবেষণায় যা ইঙ্গিত মেলে
২০১৬ সালের একর গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। ৭০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে টেকটোনিক স্ট্রেস রয়েছে, যা এখনও ২০০ বছরের ধরে বলবৎ থাকবে। এবং তা কেন্রী্টয় হিমালয়ের উপর বিশাল প্রভাব ফেলবে। ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান এবং এশিয়ান টেকটোনিক প্লেটগুলি মিলিত হওয়ার ফলে এই অঞ্চলে ভূমিকম্প ঘটাতে পারে।

ভারতের সবথেকে বেশি ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা
ভারতের সবথেকে বেশি ভূমিকম্প প্রবণ ও জোন ৫-এ থাকা শহরগুলে যে রাজ্যে অবস্থিত, সেগুলি হল- গুজরাত, হিমাচল প্রদেশ, বিহার, অসম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, জম্মু ও কাশ্মীর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি দেশের নোদাল সরকারি সংস্থা ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ করে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে।

দিল্লির কোন কোন অঞ্চল সবথেকে বেশি ভূমিকম্পপ্রবণ
এই রিপোর্ট অনুসারে দিল্লি তিনটি সক্রিয় সিসমিক ফল্ট লাইনের কাছাকাছি অবস্থিত। এই তিনটি ফল্ট লাইন হল সোহনা, মথুরা এবং দিল্লি-মোরদাবাদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুরুগ্রাম দিল্লি-এনসিআরের সবথেকে ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা। কারণ এটি সাতটি ফল্ট লাইনে অবস্থিত। এগুলি সক্রিয় হলে উচ্চ তীব্রতার একটি ভূমিকম্প আসন্ন। এই ভূমিকম্প ধ্বংস করে দিতে পারে বিস্তীর্ণ এলাকাকে।












Click it and Unblock the Notifications