ভারতের জিডিপি বৃদ্ধি ৮.৭ শতাংশ! চতুর্থ ৪.১ শতাংশ বৃদ্ধি সত্ত্বেও ২০২১-কে টেক্কা
ভারতের জিডিপি বৃদ্ধি ৮.৭ শতাংশ! চতুর্থ ৪.১ শতাংশ বৃদ্ধি সত্ত্বেও ২০২১-কে টেক্কা
২০২১-২২ অর্থনৈতিক বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি মাত্র ৪.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তা সত্ত্বেও ২০২১-২২ আর্থিক বছরের জন্য রেকর্ড করা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ২০২০-২১ আর্থিক বছরকে টেক্কা দিয়েছে। ২০২০-২১ আর্থিক বছরে ডিজিপি ছিল ৭.৩ শতাংশ। এবার অর্থাৎ ২০২১-২২ অর্থ বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৭ শতাংশ।

করোনার কারণে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রভাবিত হয়েছিল। গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চূড়ান্ত পতন হয়েছিল। করোনার তৃতীয় ঢেউ সত্ত্বেও এবার সেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করে। বিশ্বব্যাপী মূল্যবৃদ্ধির কারণে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত আনুমানিক জিডিপি ৮.৯ শতাংশ থেকে কমে ৮.৭ শতাংশ হয়েছে জিডিপি।
২০২১-২২ অর্থবছরের জিভিএ ৪.৮ শতাংশ সংকোচনের তুলনায় ৮.১ শতাংশে এসেছিল। বাণিজ্য, হোটেল এবং পরিবহনের মতো খাতে ২০ শতাংশ সংকোচনের তুলনায় ১১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে গত অর্থবছরে করোনা মহামারী-সম্পর্কিত বিধিনিষেধের আরোপ ছিল। তার প্রভাব পড়েছে এই অর্থ বছরে।
০.৬ সংকোচনের পরিপ্রেক্ষিতে উৎপাদন ৯.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চতুর্থ ত্রৈমাসিকে উৎপাদন নেতিবাচকভাবে ধসে পড়ে। ০.২ শতাংশ সংকুচিত হয়। যার ফলে সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি হ্রাস পায়। নির্মাণ খাতে ৭.৩ শতাংশ সংকোচনের বিপরীতে ১১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি দেখিয়েছে। গত অর্থবছরে ৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছৎে কৃষির গতি কমেছে ৩ শতাংশ।
জিডিপি সংখ্যার ওঠানামা করেছে ওমিক্রন তরঙ্গের সময়। স্থানীয় বিধিনিষেধের প্রভাব এবং ব্যক্তিগত খরচে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির চাপের জন্য দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। ওমিক্রন-রুপী করোনার তৃতীয় তরঙ্গ আছড়ে পড়ার ফলে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ব্যাহত হয়েছিল। তবে তা থেমে যায়নি একেবারে। সেই চেষ্টা চলছিল নিয়ম করে। চেষ্টার সুফল পেয়েছি আমরা।
মার্চ মাসের প্রথম দিকে অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ, উৎপাদকদের রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা, কাঁচামালের ঘাটতি সংক্রান্ত উদ্বেগগুলি কৃষি ও শিল্প খাতগুলিতে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। বিশেষ করে ২০২১-২২ অর্থ বছরের চতুর্থ কোয়ার্টারে বা ত্রৈ-মাসিকে তার প্রভাব পড়েছে সাংঘাতিক। আসিআরএ-র প্রধান অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ার বলেন, এই বছর প্রত্যক্ষ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে পরিষেবা খাত ৫.৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। কৃষি এবং শিল্প বিভাগগুলি এই সময় হ্রাস পেতে পারে।
তারপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবও পড়েছে। এই বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হয়েছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। তা সাধারণ মানুষের পকেটের উপর প্রভাব ফেলেছে, যার কারণে পণ্যের দাম বেড়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে খুচরো মূল্যস্ফীতি আট বছরের সর্বোচ্চ ৭.৭৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা পরপর চতুর্থ মাসে আরবিআইয়ের সহনশীলতা ব্যান্ডের উপরের সীমা লঙ্ঘন করেছে।












Click it and Unblock the Notifications