আবেগের সঙ্গে প্রযুক্তির মিশেল, তামিলনাড়ুর যুগলের বিয়েতে ফিরলেন মৃত বাবা-মা
তামিলনাড়ুর যুগলের বিয়েতে ফিরলেন মৃত বাবা-মা
করোনা কালে আপনজনকে হারিয়েছে অনেকে। কিন্তু ধরুন এরকমই কাউকে নিজের জীবনের বিশেষ দিনে যদি ফিরে পাওয়া সম্ভব হয় কোনওভাবে? কি ভাবছেন? এও কি সম্ভব! নাকি কোনও অলৌকিক জাদু? না সেরকম কিছুই নয়। বরং প্রযুক্তি আর মানুষের আবেগের সংমিশ্রণেই এরকম বিপ্লব ঘটতে চলছে আগামী বিশ্বে। আর তারই এক ঝলকের সাক্ষী থাকল তামিলনাড়ু।
প্রযুক্তিবিদ দীনেশ এসপি এবং জনগানন্দিনী তাঁদের বিয়েতে প্রযুক্তির সাহায্যে ফিরিয়ে আনলেন জনগানন্দিনীর মৃত বাবা-মাকে৷ তাঁরা বিয়েতে উপস্থিত থেকে রীতিমতো আশির্বাদ করলেন নতুন দম্পতি।

তাহলে কী সত্যিই কি জনগানন্দিনীর মৃত বাবা-মাকে বাঁচিয়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হল প্রযুক্তির সাহায্যে? না রক্তমাংসে গড়া মানুষ একবার মারা গেলে তাঁকে ফিরিয়ে আনার কোনও কৌশল এখনও বিজ্ঞানের অধরা৷ কিন্তু ভার্চুয়াল দুনিয়াতে সে বাধা নেই৷ মেটাভার্স নামের নতুন এক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে যে কোনও মানুষের আইডেন্টিটি তৈরি করা যায় ভার্চুয়ালি এবং তাদের আবার ভার্চুয়ালি জীবিত করে কথা বলা থেকে ইচ্ছে মতো সময় কাটানো যায়৷ এই মেটাভার্স পদ্ধতি অবলম্বন করেই বিয়ে সারলেন তামিলনাড়ুর দীনেশ এসপি ও জনগানন্দিনী।
মেটাভার্স এমন এক প্রযুক্তি যেখানে যে কোনও জীবিত বা মৃত মানুষের থ্রিডি ভার্সন তৈরি করে তার সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, নাচ করা, আড্ডা দেওয়া, ডিনার লাঞ্চ সহ বিভিন্ন বিষয় করা সম্ভব হয়। এই পদ্ধতিতেই ভার্চুয়ালি বিয়ে সারেন দীনেয় ও নন্দিনী। দীনেশ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গতবছর এপ্রিলে বাবাকে হারিয়েছেন নন্দিনী তাই তিনি চাইছিলেন তাদের বিশেষ দিনে নন্দিনী বাবার আশির্বাদ পাক৷ এবং সেইমতোই মেটাভার্সের সাহায্য নিয়েছেন তারা৷ এবং তাঁর প্রয়াত শ্বশুর মশায়ের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি আইডেন্টিটি বিয়েতে উপস্থিত থেকে তাদের আশীর্বাদও করেছেন।
মেটাভার্স অগমেন্টেড রিয়েলিটি, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, মেশিন লার্নিং ও আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সির সংমিশ্রণে মেটাভার্স তৈরি হয়েছে৷ তবে মার্ক জুকারবার্গ জানিয়েছেন যে এই প্রযুক্তি পুরোপুরি উপভোগ করার জন্য বিশ্বকে আরও বছর পাঁচেক অপেক্ষা করতে হবে৷ তখন ইচ্ছে মতো ভার্চুয়াল ট্যুরেও যেতে পারবেন সাধারণ মানুষ।












Click it and Unblock the Notifications