চিনের করোনা ভাইরাসের জেরে লাভবান হবে ভারতের শিল্প-বাণিজ্য!
চিনের করোনা ভাইরাস সংক্রমণের জেরে লাভবান হতে পারে ভারতীয় বাণিজ্য। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের পক্ষে এই লাভের সিংহ ভাগই হবে পোশাক রপ্তানি থেকে। কারণ বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রকোপের জেরে বহু দেশই চিন থেকে পণ্য আমদানি ও রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

পোশাক রপ্তানি বাড়তে পারে ৫০-৬০ শতাংশ
এই বিষয়ে পোশাক রপ্তানি প্রচার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এ সাথিভেল বলেন, 'রপ্ততানিতে তাত্ক্ষণিকভাবে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি হতে পারে এবং পরে এটি ধীরে ধীরে ৫০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।'

বর্তমানে ভারতের থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম
তিনি আরও বলেন, 'গত চার বছরে রপ্তানির হার স্থবির ছিল কারণ বাংলাদেশ ছাড়াও ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার মতো অন্যান্য দেশগুলি মার্কেটে প্রবেশ করে। গত তিন বছরে, আমাদের রপ্তানি হার মোটামুটি ছিল। এদিকে ভিয়েতনাম আমাদের থেকে পিছিয়ে ছিল বহু বছর। তবে কয়েক বছর ধরে আমাদের চেয়ে এগিয়ে গিয়েছে তারা। তবে এখন চিনে করোনা ভাইরাসের জেরে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।'

করোনা ভাইরাসের জেরে বিধ্বস্ত চিনের অর্থনীতি
করোনা ভাইরাসের জেরে বিধ্বস্ত হয়েছে চিনের অর্থনীতি। এই ভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা যেমন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তেমনই সেদেশের অর্থনীতি ধসের সম্মুখীন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণে প্রভাব পড়েছে ভারতের বাণিজ্যেও। এই ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার এক সচিব পর্যায়ের বৈঠকের ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী।

বাণিজ্য এবং পর্যটনের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে চিন
চিনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাণিজ্য এবং পর্যটনের ক্ষেত্রে তারা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় কোরোনার সংক্রমণ কমানো সম্ভব হচ্ছে৷ এদিকে এদিকে শুধু ভারত নয়, নিজেদের নাগরিকদের চিন থেকে ফিরিয়ে এনেছে অনেক দেশই। একইসঙ্গে চিনে নাগরিকদের যাতায়াত এবং পণ্যের আমদানি-রপ্তানিতেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কয়েকটি দেশ।

বিশ্ব অর্থনীতিতে চিনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ
২০০৩-র পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে চিনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে৷ আইফোন থেকে শুরু করে তেল, তামা সবই বিশ্বব্যাপী সরবরাহ করে চিন৷ এছাড়া দেশের বহু ধনী উপভোক্তা ব্যয়বহুল পণ্য, ভ্রমণ ও গাড়ি ব্যবসাতে খরচ করে থাকেন ৷ ২০০৩ সালে বিশ্ব জিডিপি-তে চিনের অর্থনীতির হার ছিল চার শতাংশ৷ যা বর্তমানে ১৬ শতাংশে পৌঁছেছ৷

চিনের বৃদ্ধির হারকে প্রবল ধাক্কা দিয়েছে করোনা ভাইরাস
তবে এই বৃদ্ধির হারকে প্রবল ধাক্কা দিয়েছে করোনা ভাইরাস। সরকারিভাবে কোভিড-১৯ নামে পরিচিত, এই রোগটি গত বছরের ডিসেম্বরে উহানের উদ্ভূত হয়েছিল। এটি ছড়িয়ে পড়েছে চিনের বিভিন্ন প্রদেশ-সহ অন্যত্রও। ৭২,০০০-এরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এবং এখন পর্যন্ত চিনে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২২০০।












Click it and Unblock the Notifications