বড় বিপদ অপেক্ষা করে আছে ভারতেই, ইসরোর উপগ্রহচিত্রে আতঙ্কের তালিকায় ১৪৭ জেলা
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ রিমোট সেন্সিং সেন্টার এবং ইসরোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ভারতে ৮০ হাজারেরও বেশি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।
জোশীমঠের থেকেও বড় বিপদ অপেক্ষা করে আছে ভারতে। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল উপগ্রহ চিত্রে। উত্তরাখণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা ছাড়া জম্মু-কাশ্মীর ও হিমাচলেও ঘটতে পারে বড় বিপদ। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো সম্প্রতি এমনই এক উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করেছে।
ইসরোর উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, জোশীমঠের মতো কিংবা তার থেকেও বিপজ্জনক ঘটনা ঘটতে পারে উত্তরাখণ্ডেরই দুই জেলা রুদ্রপ্রয়াগ ও তেহরি গাঢ়ওয়ালে। এমন ধসপ্রবণ ১৪৭টি জেলাকে চিহ্রিন করেছে ইসরো। তার মধ্যে রয়েছে জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচলের পাহাড়ি এলাকা।

ভারতে ৮০ হাজারেরও বেশি ভূমিধসের ঘটনা
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ রিমোট সেন্সিং সেন্টার এবং ইসরোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ভারতে ৮০ হাজারেরও বেশি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে ২০১৩ সালে কেদারনাথে সাংঘাতিক ভূমিধস হয়েছিল। আর এবার জোশীমঠে ভূমিধসও সাংঘাতিক রূপ নিয়েছিল।

উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে ভূমি ধসের প্রবণতা
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ রিমোট সেন্সিং সেন্টারের রিপোর্ট বলছে, ২০০২ সালের জুলাই থেকে ২০২২-এর মার্চ পর্যন্ত উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে ভূমি ধসের প্রবণতা। বিগত তিন বছর ধরেই যে ভূমিধস চলছে, তা জানা গিয়েছে এই রিপোর্টে। এই রিপোর্টে যোশীমঠের নীচে টেকটোনিক প্লেটের সঙ্ঘর্ষ চলছে অবিরত।

জোশীমঠের আশেপাশের এলাকাতেও ফাটল
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় জোশীমঠের আশেপাশের এলাকাতেও ফাটল দেখা দিযেছিল পাহাড়ে। জোশীমঠের কাছে বদ্রীনাথের জাতীয় সড়কে জেপি থেকে মারওয়াড়ি অবধি রাস্তায় ফাটল ধরেছে। এক থেকে দুই মিটার চওড়া ফাটল দেখা গিয়েছে জাতীয় সড়কের একাধিক অংশে। প্রশাসন অবশ্য এই ফাটল নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই বলে জানিয়েছে।

১৪৭টি জেলার মধ্যে সবথেকে ভূমিধসপ্রবণ জেলা
এখানে উল্লেখ্য, ইসরোর প্রকাশ করা ১৪৭টি জেলার মধ্যে সবথেকে ভূমিধসপ্রবণ জেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ এবং তেহরি গাঢ়ওয়ালকে। গত দুই দশকে সবচেয়ে বেশি ভূমিধস-আক্রান্ত জেলা হয়েছে এই দুটি। এখানে ১৯৮৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ভূমি ধসের একটি ডেটাবেসও তৈরি করা হয়েছে।

উত্তর-পূর্বের ৬৪টি জেলাও এই তালিকায় স্থান পেয়েছে
১৪৭টি ভূমিধসপ্রবণ জেলা রয়েছে ১৭টি রাজ্য ও দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশের অবনতি এবং চরম আবহাওয়ার কারণে কয়েক বছর ধরে ঝুঁকিকে আরও তীব্র করেছে। যদিও হিমালয় অঞ্চলের একটি বড় অংশ ভূমিধসপ্রবণ। এর ফলে উত্তরে তীর্থযাত্রার পথ এবং পর্যটন ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করছে। উত্তর-পূর্বের ৬৪টি জেলাও এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। কেরালার মতো দক্ষিণ রাজ্যগুলিও আছে এই তালিকায়।












Click it and Unblock the Notifications