লাদাখ নিয়ে চিনা অজুহাত নস্যাৎ ভারতের, বেজিংয়ের গালে নয়াদিল্লির 'তিন' থাপ্পড়
লাদাখে চলমান উত্তেজনার জন্যে ভারতকে দায়ী করার পুরোনো চাল এখনও ছাড়ার নাম নেই চিনের। এরই মধ্যে সোমবারে ভারত-চিন বৈঠকের পর ফের একবার ভারতের ঘাড়েই দোষ চাপানোর খেলায় মাতে চিন। এবং এর পিছনে নয়া কারণ এবং পুরোনো অকগুঁয়ে মনোভাব, দুটোই বিরাজমান ছিল সমান ভাবে। তবে চিনের এহেন অবান্তর দোষারোপকে উড়িয়ে দিল নয়াদিল্লি।

লাদাখ ইস্যুতে চিনা অজুহাত
মঙ্গলবার চিনের তরফে লাদাখ ইস্যুতে বলা হয়েছিল, 'সীমান্তে ভারতীয় সেনার পরিকাঠামো নির্মাণের জেরেই উত্তেজনা বেড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও দেশেরই এমন আর কোনও কাজ করা উচিত না যা থেকে দুই দেশের মধ্যে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হবে।' তবে এই অভিযোগ পুরোপোরি উড়িয়ে দেওয়া হয় ভারতের তরফে।

চিনের নিশানায় ভারতের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন
আদতে চিনের নিশানায় ছিল সোমবার দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ৪৪টি ব্রিজ উদ্বোধন করার ঘটনা। দিল্লির সাফ বক্তব্য, রাজনাথ সিংয়ের উদ্বোধন করা ব্রিজগুলির কোনওটাই এলএসি সংলগ্ন এলাকায় নয়, এবং এগুলি সাধারণ জনগণের জাতায়তের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া আরও দুটি যুক্তি পেশ করে দিল্লির তরফে বেজিংয়ের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সজোরে চড় বসানো হয়েছে।

বেজিংকে দিল্লির জবাব
ভারতের বক্তব্য, চলমান সেনা পর্যায়ের বৈঠকে একবারও চিনের তরফে ভারতের নির্মাণ কাজ নিয়ে কোনও আপত্তি তোলা তো দূর, বিষয়টি উত্থাপনই করা হয়নি। তাছাড়া চিনের দ্বিচারিতা তুলে ধরে ভারত মনে করিয়ে দেয়, লাদাখে রাস্তা নির্মাণ থেকে শুরু করে অপ্টিকাল ফাইবার বসানোর কাজ করেছিল চিন। সেখানে উত্তেজনা ছড়ানোর পিছনে যা বিশাল ভূমিকা নিয়েছিল।

লাদাখের 'কেন্দ্র শাসিত স্টেটাস' নিয়ে প্রশ্ন তোলে বেজিং
এদিকে চিন যে শুধু ভারতের নির্মাণ কাজ নিয়ে আপত্তি তুলেছিল, এমনটা নয়। ভারতকে উস্কাতে ফের লাদাখের 'কেন্দ্র শাসিত স্টেটাস' নিয়ে প্রশ্ন তোলে বেজিং। চিনের বক্তব্য, বেআইনি ভাবে লাদাখকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসাবে গঠন করেছে ভারত। এবং চিন সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় ভারতের পরিকাঠামোগত নির্মাণ কাজের বিরোধ জানাচ্ছে বেজিং। তবে এদিন ভারতের পক্ষ থেকে কড়া জবাবের পর হয়ত কিছু দিন চুপ থাকবে বেজিং।

চিনা আগ্রাসী মনোভাব আর বরদাস্ত করবে না ভারত
ভারতের বক্তব্য, ১৯৭৬ সালে চিনা স্টাডি গ্রুপ লাদাখে ৬৫টি প্যাট্রোলিং পয়েন্ট নির্ধারণ করে দিয়েছিল। সেখানে ভারত এবং চিনা সেনার টহলের সীমাও উল্লেখিত ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পিএলএ এই সীমাগুলিতে বদল এনে সেগুলিকেই ভারত-চিন সীমান্ত হিসাবে তুলে ধরতে চেয়েছে। তবে চলমান পরিস্থিতিতে ভারত আর এই আগ্রাসী মনোভাব সহ্য করবে না।

চিনের ভয়ের কারণ
এদিকে চিনের ভয়, লাদাখ এবং কাশ্মীর জুড়ে ভারতের পরিকাঠামোগত নির্মাণ কাজ তাদের সিপেক প্রকল্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পাকিস্তানের সঙ্গে তৈরি হওয়া চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর শি জিনপিংয়ের স্বপ্নের প্রকল্প। এবং সেই প্রকল্পের সুরক্ষা নিয়েই নাকি বেজিং চিন্তিত। এবং এর জেরেই ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামোগত উন্নয়নও হজম করতে পারছে না চিন।

বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের তৈরি ৪৪টি সেতু উদ্বোধন
প্রসঙ্গত, সোমবারে যখন দুই দেশের সেনার বৈঠক চলছিল সেই সময় ৭টি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের তৈরি ৪৪টি সেতু উদ্বোধন করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। এই ব্রিজগুলো লাদাখ, অরুনাচল প্রদেশ, সিকিম, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব আর জম্মু কাশ্মীর সীমান্তে বানানো হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি ব্রিজ রয়েছে কাশ্মীরে। এবং বর্তমানে এই সেতুগুলি নিয়েই আপত্তি চিনের।
একমেরু বিশ্ব তৈরির ফন্দি বেজিংয়ের, চিনা ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস মার্কিন এনএসএ-র












Click it and Unblock the Notifications