পহেলগাঁও হামলার বদলা নিতে প্রস্তুত ভারত, নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে আক্রমণাত্মক মহড়া চালাচ্ছে বায়ুসেনা
কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারানোর পর, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় সেক্টরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে আক্রমণ অনুশীলন চালায়, যেখানে নেতৃত্ব দেয় রাফায়েল যুদ্ধবিমান।
এই অনুশীলনে শুধু যুদ্ধবিমান নয়, যুক্ত হয় বহুমুখী পরিবহণ বিমান ও AWACS সজ্জিত নজরদারি বিমান। সূত্র জানিয়েছে, বিমানগুলি পাকিস্তান সীমান্তের খুব কাছাকাছি গিয়ে টহল দিয়েছে, যাতে কোনও শত্রু গতিবিধি দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিহত করা যায়। আর একই সাথে পাক সীমান্তেও ব্যবস্থাপনা কীরকম তাও যাচাই করা যায়।

ভারতীয় বিমান বাহিনীর দুটি রাফায়েল স্কোয়াড্রন, একটি পশ্চিমবঙ্গের হাশিমারা ঘাঁটি এবং অন্যটি আম্বালা ঘাঁটি থেকে উড়ে আসে। আকাশে নজরদারির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী গ্রামে তল্লাশি অভিযানের তীব্রতা বাড়ানো হয়েছে এবং পরিচিত সন্ত্রাসীদের আস্তানা ধ্বংসে অভিযান চলছে বলেও জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী শুক্রবার শ্রীনগরে পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ১৫তম কর্পস কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল প্রশান্ত শ্রীবাস্তব এবং Victor Force-এর কমান্ডার। যা জানা যাচ্ছে, সেনাপ্রধান নিয়ন্ত্রণ রেখা এবং কৌশলগত অঞ্চলগুলিতে নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন।
সূত্রের দাবি, এই বৈঠকে উপস্থিত ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা বর্তমান পরিস্থিতি, গোয়েন্দা তথ্য এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে তাঁকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করবেন। কীভাবে প্রতিটা মুহুর্ত ভারতকে সজাগ থাকতে হবে, তাও বার্তা দিতে পারেন সেনাপ্রধান এমনটা মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকের পর, সেনাপ্রধান পহেলগাঁও-এ সেই স্থানটি পরিদর্শন করবেন এদিন, যেখানে ২২ এপ্রিলের সন্ত্রাসী হামলায় পর্যটকদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এলাকাটি বর্তমানে জনশূন্য। তাই গোটা এলাকা ঘুরে দেখবেন সেনাপ্রধান। একই সাথে আততায়ীরা কীভাবে বৈসরন ভূমিতে এসে পৌঁছাল, তারও সন্ধান চালাবেন তিনি।
এটি ছিল ৩৭০ ধারা বাতিলের পর অন্যতম বড় সন্ত্রাসী হামলা। সরকারের পক্ষ থেকে যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি, তবে সারা দেশজুড়ে চলছে শোক ও ক্ষোভের স্রোত। ভারত এখন কেবল প্রতিরক্ষা নয়, কূটনৈতিক স্তরেও পাকিস্তানের প্রতি কঠোর বার্তা পাঠাচ্ছে।
কাশ্মীরের আকাশে রাফায়েলের গর্জন, জলে সাঁজোয়া সাজিয়ে প্রস্তুত নৌবাহিনী, সীমান্তে সেনার কঠোর নজরদারি - সব মিলিয়ে ভারতের একটাই বার্তা: "সন্ত্রাসের জবাব এবার শক্ত হাতে"। জঙ্গিদের এবং সর্বপরী পাকিস্তানকে ভারত বুঝিয়ে দেবে, এই ঘটনার বদলা ভয়াবহ ও দীর্ঘ হবে।












Click it and Unblock the Notifications